ইয়াওমুল জুমুআ (শুক্রবার), ৩০ অক্টোবর ২০২০

তেতো করলায় মিষ্টি হাসি

তেতো করলায় মিষ্টি হাসি

নিউজ ডেস্ক: চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই করলা চাষে ঝুঁকেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা। অল্প সময়ে কম পুঁজিতে বেশি লাভ হয় বলেই তারা করলা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় গতবারের তুলনায় করলার ফলনও হয়েছে দ্বিগুণ। পাশাপাশি এবার চাষিরা দামও পাচ্ছেন ভালো। ফলে করলা তেঁতো হলেও এর ফলনে হাসি ফুটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিদের মুখে।

এ জেলায় উৎপাদিত করলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায়। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও এ জেলার করলা রফতানি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার রাজাগাঁও, আসাননগর, চাপাতি, রাজারামপুর খড়িবাড়ী, দক্ষিণ বঠিনা, উত্তর বঠিনা, ঝলঝলি, ফরিদপুর, বড়দেশ^রী, ধর্মপুর, বোয়ালিয়া চোপড়াপাড়াসহ রুহিয়ার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২শ চাষি করলার আবাদ করছেন। সাধারণত বছরে এক জমিতেই দুবার করলা চাষ করা যায় বলে জানান চাষিরা।

সদর উপজেলার পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান, মসলেম মিঞাসহ অনেকে জানান, জেলার বাসিন্দাদের চাহিদা মেটাতে কয়েক বছর আগেও অন্য জেলা থেকে করলা আনতে হতো। কয়েক বছর ধরে এ জেলার উৎপাদিত করলাই বিক্রি হচ্ছে বাজারে। শুরুতে প্রতি কেজি করলা ৭০ থেকে ৮০ কিংবা ১শ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ করলা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকায়। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বাজার, রোড বাজার ও কালিবাড়ী বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে এ করলা।

ঠাকুরগাঁও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, আগস্ট থেকে অক্টোবর ও অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে জমিতে দুবার করলা চাষ করা যায়। সাধারণত রোপণের ৪০-৫০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। মাত্র দেড় মাসে ফলন পাওয়া যায় বলে এ ফসলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে চাষিদের মধ্যে। তাই এ জেলায় করলা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঠাকুরগাঁওয়ের বড়দেশ^রী গ্রামের বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী নিরাপদ কৃষি খামারের করলা বাজারজাত শুরু হয়েছে। পদকপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান উল্লাহ বলেন, চার-পাঁচ বছর ধরে করলা চাষ করে লাভবান হচ্ছি। আমার দেখাদেখি গ্রামের অন্য চাষিরাও করলা চাষে ঝুঁকছেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আফতাব হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় ২৩০ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কেজি। এবার ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় আগামী দিনে এর চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছি। এর ফলন আরও ভালো করার লক্ষ্যে কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের প্রয়োজনীয় সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

Facebook Comments