ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে এনজিও কর্মকর্তা উধাও

বগুরা সংবাদদাতা: সাধারণ মানুষ ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সাধ্যমতো সঞ্চয় রাখে ব্যাংক, বীমা ও এনজিওতে। বগুড়ার শেরপুরের একতা উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি এনজিও, সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গত রোববার উধাও হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মানছুরুর রহমান। ফলে সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সমিতির ভুক্তভোগী সদস্যরা।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে একতা উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি ঋণদান ও সঞ্চয় সমিতি কার্যালয় চালু হয় শেরপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডক্টরস কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায়। সরকারি কোনো নিবন্ধন না নিয়ে সদস্য ভর্তি ও তাদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান ও তার স্ত্রী একই সংগঠনের সদস্য সচিব নাজনীন আকতার।

পরবর্তীতে মোটা অংকের মুনাফা ও ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ওই এনজিও প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক সংগ্রহ করে তাদের প্রত্যেকের নামে একাধিক সঞ্চয়ের বই খুলে প্রায় এক কোটি টাকা আদায় করেন। কিন্তু গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার পরিবর্তে তাদের সঞ্চয়ের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান। তবে সমিতির সদস্য সচিব নাজনীন আকতার বাসায় অবস্থান করলেও তিনি অসুস্থ থাকার অজুহাত দেখিয়ে কারও সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করছেন না। এমনকি টাকা ফেরত দেয়ার ব্যাপারেও কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না তিনি।

সমিতির সদস্য সোহেল রানা জানান, তিনি একাই একাধিক বই খুলে ২ লাখ ৮ হাজার ৭০০ টাকা সঞ্চয় জমা করেছেন। একইভাবে টুকু মিয়া, সামছুল হক, সাইফুল ইসলামসহ অনেকেই সদস্য হিসেবে সঞ্চয় জমা রেখেছেন। কিন্তু কেউ টাকা ফেরত পাননি। তাদের সবারই সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে গত রোববার সন্ধ্যার দিকে উধাও হয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান।

এ বিষয়ে একতা উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পলাতক এবং ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ওই সংগঠনের সদস্য সচিব নাজনীন আকতার তার স্বামী উধাও হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সদস্যদের কিছু কিছু করে টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সমিতির সব সদস্যের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেয়া হবে। তবে করোনার কারণে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বগুড়ার শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ ঘটনার কথা শুনেছি। তবে সমিতির কোনো সদস্য এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments