ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ০৪ আগস্ট ২০২০

ভারত এবার পাঠ্যপুস্তক থেকেও মুছে দিলো টিপু সুলতানের ইতিহাস

ভারত এবার পাঠ্যপুস্তক থেকেও মুছে দিলো টিপু সুলতানের ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এবার স্বর্ণালী ইতিহাসের মুসলিম বিজ্ঞানী টিপু সুলতানের ইতিহাস ভারতের পাঠ্যপুস্তক থেকে তুলে দিলো – জ্ঞান বিজ্ঞান, চিকিৎসা, শিল্প সাহিত্য ও বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমান দের যে শ্রেষ্ঠ অবদান রয়েছে তা আমরা অনেকেই জানিনা। জ্ঞান -বিজ্ঞানের প্রায় সকল ধারা বা শাখা প্রশাখা মুসলিম মণীষীদেরই আবিস্কার। বলা যেতে পারে তাঁদের মৌলিক আবিস্কারের উপরই বর্তমান জ্ঞান-বিজ্ঞানের অধিষ্টান। মুসলমান দের জ্ঞান চর্চা করেই অমুসলিম বিশ্ব আজ উন্নত। কিন্তু পাশ্চাত্ত্য সভ্যতার ধারক ও বাহক এবং তাদের অনুসারী ইউরোপীয় পন্ডিতগন ষড়যন্ত্র মুলক ভাবে মুসলিম মণীষীদের নাম মুসলমান দের স্মৃতিপট থেকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য ইসলামের ইতিহাস এবং মুসলিম বিজ্ঞানীদের নাম কে এমন বিকৃত ভাবে লিপিবদ্ধ করেছে যে নাম দেখে বোঝার উপায় নেই ইনি একজন খাঁটি মুসলমান। ফলে সঠিক ইতিহাস অবগত না থাকার কারনে, সভ্যতার উন্নয়নে মুসলমান দের কোন অবদান নেই বলে প্রচার করা হয়। অথচ সভ্যতার উন্নয়নের মূলেই অমুসলিম গন মুসলিম মণীষীদের কাছে ঋণী। ঠিক একি রকম ভাবে আজকেও এমনি একটি ইতিহাসের সূচনা ঘটলো ভারতে।

ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণ হারানো দক্ষিণ ভারতের মহীশূরের রাজা টিপু সুলতান সম্বন্ধে যা যা লেখা আছে কর্নাটকের স্কুলে ইতিহাসের পাঠ্য বইগুলোতে, তা সরিয়ে দিচ্ছে
বর্তমান ভারত সরকার।

ভারতের পাঠ্যবই থেকেও মুছে ফেলা হচ্ছে উপমহাদেশের বীর পুরুষ এবং মুসলিম বিজ্ঞানী টিপু সুলতানের ইতিহাস। শুধু তাই নয়, এ বছর পালন করা হবে না তার জন্মদিনও। ব্রিটিশ ভারতে আঠারো শতকের মহীশুরের শাসক টিপু সুলতান ও তারা বাবা হায়দার আলীর উপর ভিত্তি করে অধ্যায়টি কর্ণাটক রাজ্যের সপ্তম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দেশে চলমান মহামারীর মধ্যেও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যক্রম হ্রাস করার সিদ্ধান্তের আলোকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যানা যায়, সংশোধিত সিলেবাস কর্ণাটক পাঠ্যপুস্তক সোসাইটির ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, সপ্তম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে হায়দার আলী ও টিপু সুলতান, ঐতিহাসিক স্থান ও প্রশাসনিক কমিশনার বাদ দেওয়া হয়েছে।

কয়েক মাস আগে পাঠ্যসূচী থেকে টিপু সুলতান সম্পর্কিত অধ্যায় বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা। ওই সময় সে বলেছিল, আমাদের সরকার রাজ্যের পাঠ্যবই থেকে টিপু সুলতানের ইতিহাস প্রসঙ্গ মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। পাঠ্যবইয়ে এই ধরনের মুসলমানদের ইহিহাস এবং বিষয় থাকা উচিত নয়। ১০১ শতাংশ নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমরা এটা হতে দেব না।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকেও জানা যায়, এ বছর ১০ নভেম্বর টিপু সুলতানের জন্মদিন পালন থেকেও বিরত থাকবে কর্নাটক সরকার।

কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা ইতিমধ্যেই সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছে, টিপু সুলতানের জন্মদিন পালন বন্ধের পাশাপাশি স্কুলের ইতিহাস বই থেকেও সরিয়ে ফেলা হবে তার ইতিহাস। কোডাগুর বিধায়ক আপ্পাচু রাজনের পরামর্শেই নাকি টিপু সুলতানের অস্তিত্ব মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী।

-আইজিএসআরসি

Facebook Comments