ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ০৪ আগস্ট ২০২০

করোনা টেস্ট রিপোর্ট: নারী হয়ে গেলেন পুরুষ, আরেকজনের বয়স ১৪,৬১৩!

করোনা টেস্ট রিপোর্ট

নিউজ ডেস্ক: বিদেশ যাত্রার আগে সরকারের নিয়ম মেনেই কোভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়েছিলেন এক দম্পতি। পরীক্ষায় স্বামীর কোভিড নেগেটিভ আসলেও স্ত্রীর পজিটিভ আসে। ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে রোগের বিষয়ে ফের নিশ্চিত হতে ৪৮ ঘন্টার ব্যবধানে সরকারি আরেক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করান তারা। এবার দুজনই নেগেটিভ।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, সরকারি ওই প্রতিষ্ঠানে প্রথম পরীক্ষার রিপোর্টে ওই নারী রোগীর লিঙ্গীয় পরিচয়ের জায়গায় লেখা ‘পুরুষ’। আবার পুরুষ ব্যক্তির বয়স লেখা হয়েছে ১৪ হাজার ৬১৩ বছর।

এমনই ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের নাগরিক দম্পতি দিলরুবা জামান এবং আখতারুজ্জামানের সঙ্গে।

তারা জানান, গত রোববার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাদের ঢাকা-লন্ডনের ফ্লাইটে টিকিট বুকিং দেওয়া ছিল। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশযাত্রার ৪৮ ঘন্টা আগে শুক্রবার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টারে নমুনা দিয়ে আসেন তারা।

এর পরদিন তাদের ম্যানেজার ৭ ঘন্টা অপেক্ষার পর সেখান থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে আসেন যাতে দিলরুবা জামানের কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে।

একটি আন্তর্জাতিক স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মিসেস জামান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “আমি খুবই দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই এবং চিন্তা করতে থাকি আমার পরিবারের সদস্যরাও এতে সংকটে পড়ে গেলো। সে রাতে আমরা কেউই ঘুমোতে পারিনি।”

তিনি বলেন, “সবচেয়ে অদ্ভুত লাগলো আমার লিঙ্গ সেখানে দেওয়া হয়েছে পুরুষ হিসেবে আবার আমার স্বামীর বয়স লেখা হয়েছে ১৪ হাজার ৬১৩ বছর।”

তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফ্লাইটের দিনই মহাখালিতে অবস্থিত আইসিডিডিআরবিতে আরেকবার টেস্ট করান তারা। সেই প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবার হাতে এসে পৌঁছেছে যাতে দেখা যায় তাদের দুজনেরই করোনা নেগেটিভ।

মিসেস জামান বলেন, “মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই আমি ভাইরাস পজিটিভ থেকে নেগেটিভ হয়ে গেলাম। তার মানে এই মানসিক যন্ত্রণা আর দুর্ভোগগুলো অকারণেই পোহাতে হয়েছে আমাদের।”

“তাছাড়া অনেকেরই এই পরীক্ষা দুইবার করানোর মতো সামর্থ্য নেই। আমি মনে করি এইসব রিপোর্টে যারা স্বাক্ষর করে তারাই দায়ী। অন্তত লিঙ্গ এবং বয়সের মতো এমন অদ্ভুত ভুলগুলো তাদের শুধরে দেওয়া উচিত ছিল।”

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “তাদেরকে দ্বিতীয় পরীক্ষা করাতে কে বলেছে? আমরা বলেছি? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বিদেশগামী যাত্রীদের করোনার পরীক্ষার জন্য সারাদেশে ১৬টি হাসপাতাল নির্ধারণ করে দিয়েছে। ওই হাসপাতালগুলো থেকে দেওয়া রিপোর্টই চূড়ান্ত রিপোর্ট।”

টেস্টের পর রিপোর্ট দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগার ব্যাপারে তিনি বলেন, “মাঝামাঝে সার্ভার ডাউন হয়ে যায়। এ ধরণের টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিলে আমরা ঠিক সময়ে রিপোর্ট দিতে পারি না।”

বয়স এবং লিঙ্গ লেখার ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা ম্যানুয়ালি এই তথ্যগুলো লিখে নেই। সেকারণে এমনটা হতে পারে। তবে কেউ অভিযোগ করলে আমরা সেটা ঠিক করে দেব।”

Facebook Comments