ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২৯ অক্টোবর ২০২০

করোনার অজুহাতে কোরবানির বিধানে হস্তক্ষেপ করা যাবে না

কোরবানির বিধানে হস্তক্ষেপ করা যাবে না

নিউজ ডেস্ক: ইসলামের একটি বড় নিদর্শন হচ্ছে কোরবানি। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে পবিত্র কোরবানি মুসলিম উম্মাহর ওপর ওয়াজিব করা হয়েছে। কোরবানির পশু জবাইতে নিরুৎসাহিত করার নূন্যতম সুযোগ নেই। করোনার অযুহাতে কোরবানির বিধান কোনো অবস্থাতেই শিথিল হতে পারে না। সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের অবশ্যই কোরবানি আদায় করতে হবে। আজ শুক্রবার জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে মসজিদের খতীব ইমামরা এসব কথা বলেন।

অধিকাংশ মসজিদে জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় মুসল্লিদের রাস্তার ওপর জুমার নামাজ আদায় করতে হয়েছে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি এহসানুল হক জিলানী খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, ইসলামের একটি বড় নিদর্শন হচ্ছে কোরবানি। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে পৃথিবীতে কোরবানি এসেছে। কিয়ামত পর্যন্ত এই কোরবানি চলমান থাকবে ইনশাআল্লাহ। পেশ ইমাম বলেন, আল্লাহপাক মুসলিম উম্মাহর জন্য কোরবানিকে ওয়াজিব করেছেন। করোনার অযুহাতে কোরবানির পশু জবাইতে নিরুৎসাহিত করার কোনো সুযোগ নেই। সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের অবশ্যই কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, পবিত্র কোরবানি পরিহার করে দান সদকা করলে হবে না। বৃষ্টি বাদলে দিনে কোরবানির পশু জবাইয়ের বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

নগরীর চকবাজার ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতীব শাইখুল হাদীস মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি খুৎবার বয়ানে বলেন, করোনার অযুহাতে কোরবানির বিধান কোনো অবস্থাতেই শিথিল হতে পারে না। ঈদুল আযহায় যাদের কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য আছে তাদেরকে অবশ্যই অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কোরবানির বিধান পালন করতে হবে। খতীব বলেন, ইসলামী গবেষকরা বলেছেন,প্রতিটি ইবাদতের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া অর্জন করা। আর এই তাকওয়া মুমিনের কাছে আসবে পৃথক পৃথক ইবাদতের মাধ্যমে। সুতরাং কোনো এক প্রকার ইবাদত দিয়ে অন্য আরেক প্রকার ইবাদতে তাকওয়া অর্জন সম্ভব নয়। সামর্থ্যবান প্রত্যেককেই কোরবানি দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো মহল থেকেই কোনো প্রকার মতভেদ কাম্য নয় এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্যও নয়।

লালবাগ ২৫ নং ওয়ার্ড জে এন সাহা রোডস্থ বায়তুস সালাম জামে মসজিদের খতীব মুফতি দেলোয়ার হোসেন আশরাফি খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, মুসলমানরা হজে যেতে পারছেন না, এখনো তওবার দরজা খোলা আছে। আজাব গযব থেকে মুক্তি পেতে বেশি বেশি তাওবা ইস্তিগফার করতে হবে, মীলাদ শরীফ পাঠ করতে হবে। তিনি বলেন, আল্লাহপাক যাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন তাদেরকেই ইবাদত বন্দেগির সুযোগ প্রদান করেন।

ঢাকার ডেমরার ঐতিহ্যবাহী দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা জামে মসজিদের খতীব মাওলানা মো.মনিরুল ইসলাম আজ খুৎবার বয়ানে কোরবানির ফজিলত তুলে ধরে বলেন, কোরবানি দিলে এর চেয়ে উত্তম আমল আর নেই। কিয়ামতের দিন কোরবানির পশুর শিং, চুল, খুর ও রক্ত আল্লাহর দরবারে হাজির হবে। খতীব বলেন, কোরবানির রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহপাকের দরবারে কবুল হয়ে যাবে। কোরবানির পরিহার করে দান বা সদকা করলে তার ওয়াজিব আদায় হবে না। যারা কোরবানি দিবেন তারা যেনো চাঁদ ওঠার পর থেকে কোরবানির পশু জবাই পর্যন্ত হাত পায়ের নখ, গোফ ও অন্যান্য পশম কাটবেন না।

কামরাঙ্গীর চর নূরিয়া মাদরাসা জামে মসজিদের খতীব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী খুৎবার বয়ানে বলেন, কোরবানির কোনো বিকল্প পথ নেই। কিয়ামতের দিন কোরবানির প্রত্যেক পশমের জন্য আল্লাহপাক নেকী দান করবেন। কোরবানির বিধান কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়ায় জারি থাকবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, কোরবানি নিয়ে যারা চক্রান্ত করবে তাদের পরিণাম শুভ হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সেগুনবাগিচা মসজিদে নূরের খতীব মুফতি আব্দুল কাইয়ূম সুবহানি খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন,মানুষের উচিৎ আল্লাহপাকের অগণিত নেয়ামত ও অনুগ্রহকে স্মরণ করে তার প্রতি আস্থাশীল হওয়া। আল্লাহর পক্ষ থেকে কোরবানি একটি বড় অনুগ্রহ। তিনি বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির এ সুযোগকে কোনো ভাবেই হাত ছাড়া করা যাবে না। সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কোরবানি আদায় করতেই হবে।

Facebook Comments