ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ২৫ নভেম্বর ২০২০

যেভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ শতাংশ, সেখানে নতুন বছরের বাজেটে এই বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা দ্বিগুণ ধরা হয়েছে। হঠাৎ এত বিনিয়োগ বাড়বে কীভাবে- এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিনিযোগ বাড়বে এ কারণে যে, বিদেশি অনেক উদ্যোক্তা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য প্রস্তুত। আর আমরা ১০০টির বেশি অর্থনৈতিক জোন করছি। এর মধ্যে ১৭টির কাজ শেষের দিকে। করোনার কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ স্থানান্তরিত হবে।

‘বিদেশিরা কেন আমাদের দেশে বিনিয়োগ করবে? কারণ তাদের বিনিয়োগের জন্য সব ধরনের ইনসেনটিভ (প্রণোদনা) দেয়া হচ্ছে। আমরা এবারের বাজেটে লোকাল ইন্ডাস্ট্রিকে প্রাধান্য দিচ্ছি। লোকাল ইন্ডাস্ট্রি মানে শুধু বাংলাদেশিদের ইন্ডাস্ট্রি না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিদেশিদের ইন্ডাস্ট্রিকেও স্থানীয় হিসেবেই স্বীকৃতি দেয়া হবে।’

মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের দরকার হচ্ছে এই মুহূর্তে দেশের মানুষকে বাঁচানো, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া। বিদেশে হোক বা এ দেশেই হোক, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা আশা করি আগামীতে ১০০টি ইকোনমিক জোনের মাধ্যমে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এখানে অটোম্যাটিকলি বিনিয়োগ আসবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, কোন পথে বিনিয়োগ আসবে সেগুলো এতদিন জানতাম না, এখন জানি। এ জন্য আইনগুলো সহজ করে দিচ্ছি। স্থানীয় ও বিদেশি সবাই একই পণ্য উৎপাদন করতে পারবে। দুইক্ষেত্রে একই ধরনের বেনিফিট দেয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে রাজস্ব জিডিপির অনুপাত ১০ থেকে ১১ ভাগ। বিদেশে ১৬-১৬ ভাগের নিচে নেই ১৭-১৮ ভাগ পর্যন্ত আছে। রজস্ব জিডিপির অনুপাতটা যদি আমরা ১৫ ভাগেও উন্নীত করতে পারি, তাহলে আমাদের হাতে অনেক টাকা আসবে। এটাই হচ্ছে আমাদের বিনিয়োগের একটা অবলম্বন।

শেয়ারবাজারের জন্য বাজেটে নতুন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে কি-না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের সরকারই পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে হস্তক্ষেপ করে না। দেশের অর্থনীতি যত শক্তিশালী হবে, তার প্রভাব দেশের পুঁজিবাজারে পড়বে। আমরা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে চাই। এটা করতে পারলেই পুঁজিবাজারে এর প্রভাব পড়তে বাধ্য।

Facebook Comments