ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ২৪ নভেম্বর ২০২০

তিস্তার ঢলে পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ

বিপৎসীমার উপরে তিস্তার পানি, খুলে দেয়া হলো ৪৪ গেট

লালমনিরহাট সংবাদদাতা:  উজানের ঢল ও গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোর কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ব্যাপক ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনগোষ্ঠী।

পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকায় কুড়িগ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুদিনে জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের দুটি গ্রামের ১৫-২০টি বাড়িঘরসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে নদী তীরবর্তী মানুষ তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

তিস্তা নদীর পানি পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলসহ অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে আবাাদি জমিও তলিয়ে গেছে। ভাঙনের তীব্রতায় নদী তীরবর্তী মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তিস্তার পানির প্রবল স্রোতে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা ও পাড়ামলা এলাকায় তিস্তা নদীর তীর প্রচ- ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে চরম আতঙ্ক ও দুর্ভোগে দিন কাটছে নদী তীরবর্তী মানুষের।
ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী প্রায় ১৫-২০ জনের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও প্রায় ১০-১২ বিঘা আবাদি জমিও বিলীন হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

শনিবার দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজের সবকটি স্লুইসগেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে দেয়ায় গত শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে হঠাৎ বাড়তে থাকে তিস্তার পানি। যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল শনিবার সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে কমতে থাকে পানি। সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার, দুপুর ১২টায় ১৩ সেন্টিমিটার ও বিকেল ৩টায় ১০ ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি দেখে তিস্তাপাড়ের মানুষ বড় ধরনের বন্যার শঙ্কায়। তবে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দাবি তিস্তায় বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। বৃষ্টির কারণে উজানের ঢেউয়ের ফলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। উজানে ভারতে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। তাই ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যাবে বলে দাবি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া শাখা। পলি ও বালু জমে তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি প্রবাহ লোকালয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা দেখা দেয়। তবে আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের।

তিস্তায় পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদাম ও ভুট্টাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেকের ফসলের ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে ফসলহানির শঙ্কায় কৃষকরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন পাসাইটারী তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে পানিবন্দি হওয়ায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চর হলদিবাড়ী গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, গত দু’দিন থেকে একটু একটু করে বৃদ্ধি পেয়ে আবার কমে গেলেও জুমুয়াবার রাতে প্রচ- গতিতে পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে পানিবন্দি হয়ে গ্রামের সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকের মধ্যে পড়েছি।

Facebook Comments