ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ১১ জুলাই ২০২০

কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি বিভাগের দেয়া বীজে

লালমনিরহাট সংবাদদাতা: কৃষি বিভাগের দেয়া ব্রি-৮৪ জাতের ধান বীজ নিয়ে সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে রোপন করেন কয়েকজন কৃষক। চারা রোপনের পর ধানে দুধচাপার আগ পর্যন্ত সব কিছুই ঠিক ছিল। কিন্তু ধান কলাপাকা হয়ে আসলে কৃষক লক্ষ্য করেন ধানে পরিপক্ক দানা নেই, আছে চিটা। একই অবস্থা অপর কৃষক সফিউদ্দিন ও আলিমের ক্ষেতেও।

ভুক্তভোগী কৃষকরা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। এরা ৩ ওই উপজেলার কৃষি বিভাগের প্রদর্শনী ধান চাষের সুবিধাভোগী কৃষক।

তবে কৃষিবিদরা বলছেন, ব্রি-৮৪ জাতের ধান একেবারে নতুন। নতুন জাতের ধান স্থানীয় মাটি কার্যকর কিনা তা পরীক্ষামূলক চাষ করে কৃষক পর্যায়ে রোপনের জন্য বিতরণ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কৃষি বিভাগ তা না করে হয়তোবা সরাসরি চাষি পর্যায়ে বিতরণ করেছেন। ৮৪ জাতের ধানটি এখানকার মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী নাও হতে পারে। এছাড়া বালাইনাশক ঔষুধও ঠিকভাবে প্রয়োগ না করায় চাষিদের ধানে চিটা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ওই উপজেলার ২০১৯-২০ অর্থ বছরের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ বছরের ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখ কৃষক তার বাড়ির পাশে সাড়ে চার বিঘা জমিতে ব্রি-৮৪ জাতের ধানের চারা লাগিয়েছিলেন। ধান কলাপাঁকা হয়ে আসলে তিনি লক্ষ্য করেন ধানে পরিপক্ক দানা নেই, আছে চিটা। একই অবস্থা অপর কৃষকদের ক্ষেতেরও।

এরপর তারা তিনজনই কৃষি অফিসের শরণাপন্ন হন। কৃষি অফিস দফায় দফায় ওই ৩ কৃষককে বিভিন্ন ধরণের ওষুধ প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন। এরপর ওষুধ কিনে চিটাধানে তা প্রয়োগ করলেও শেষ পর্যন্ত কোন ভাল ফল না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। প্রান্তিক ঐ কৃষকদের কাছে এটা অনেকটা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বস্বান্ত কৃষক আশার সফল ঘরে না তুলে ক্ষেতেই রেখে দেন। তাদের ভাষায় ‘ মড়া টেনে লাভ কী ?’

কৃষক বলেন, আমি ও অপর দুই কৃষক পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় অফিসের সরবরাহকৃত বীজে ব্রি ধান-৮৪ জাতের প্রদর্শনী ক্ষেত করি। ধানে দুধচাপার আগ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল। ধানে পাঁক আসলে লক্ষ্য করি দানা পরিপক্ক হচ্ছে না, কিছুদিন অপেক্ষা করার পর বুঝতে পারি ধানের দানা চিটায় পরিণত হতে চলছে। এরপর কৃষি অফিসের শরণাপন্ন হই। কৃষি অফিস দফায় দফায় ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেন। আশায় বুক বেঁধে টাকা খরচ করে ওষুধ ছিটাই। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এই ক্ষেত করতে গিয়ে আমার খরচ হয় ৪০ হাজার টাকা। সাথে একটি মৌসুমের আবাদ। তাতে আমার মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে লক্ষাধিক টাকা। আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৩ জনকেই কৃষিতে প্রনোদনা দিতে কৃষি অফিসের কাছে জোর আবেদনও করছি ।
কৃষক সফিউদ্দিন বলেন, আমি কৃষি অফিসের সহযোগিতায় দুই বিঘা ব্রি-৮৪ জাত ধান করেছিলাম। আমার সবটাই চিটা পড়েছে। এতে আমার ক্ষতির পরিমাণ ৫০হাজার টাকা। কৃষক আলিম বলেন, আমি দেড় বিঘা জমিতে কৃষি অফিসের দেওয়া বীজে ধান করেছিলাম। আমার ধান ক্ষেতের সবটাই চিটা পড়েছে। এতে আমার মোট ক্ষতি ৪০ হাজার টাকা। আমি কৃষি অফিসের কাছে আবেদন করছি আমার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে।

Facebook Comments