ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ০২ জুলাই ২০২০

যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-স্থাপনা

যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-স্থাপনা

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা: বর্ষা মৌসুম আসার আগেই সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। তীব্র ভাঙনের ফলে যমুনা গর্ভে বিলীন হচ্ছে দক্ষিণ চৌহালীর ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ খাস পুকুরিয়া ও বাগুটিয়া ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি গ্রাম।

শনিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই দ্রুত বাড়ছে যমুনা নদীর পানি। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চৌহালী উপজেলা সদরের জনতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে খাস পুকুরিয়া হয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরবিনুনাই-ভুতের মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দক্ষিণ খাস পুকুরিয়া, মিটুয়ানী, রেহাই পুকুরিয়া ও চরবিনানই এলাকার প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি, সাতটি তাঁত কারখানা, তিনটি প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খাস পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার বলেন, যমুনার ভাঙনে তার ইউনিয়নের খাস পুখুরিয়া ও মেটুয়ানি গ্রামের তীরবর্তী এলাকার অন্তত ২০/২৫টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে এ অঞ্চলের মানুষের।

বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী বলেন, গত এক মাসের ব্যবধানে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাই পুকুরিয়া, চর নাকালিয়া, বিনানুই ও চর সলিমাবাদ গ্রামের তীরবর্তী অঞ্চলের শতাধিক ঘরবাড়ি এবং মেটুয়ানি ও দেওয়ানগঞ্জ বাজারসহ তাঁত কারখানা এবং তিনটি প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়াও এ অঞ্চলের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান পাকা সড়কটির প্রায় দেড় কিলোমিটার ধসে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, রাস্তা, কালভার্ট-সেতুসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেওয়ান মওদুদ আহমেদ জানান, নদী ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (চৌহালী উপজেলার দায়িত্বে) সিরাজুল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ওই এলাকায় স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্প পাস হলেও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভাঙনরোধ করা সম্ভব হবে।

Facebook Comments