ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২৮ মে ২০২০

মেস মালিকদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী সংবাদদাতা: দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বন্ধ রাজশাহীর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গেছেন ১৫ মার্চ। কিন্তু বাড়িতে গিয়েও স্বস্তিতে নেই লাখো শিক্ষার্থী। রাজশাহীর মেস মালিকদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জীবন। বিকাশের মাধ্যমে মেস ভাড়া পাঠাতে চলছে মেস মালিকদের এসএমএস অভিযান। সঙ্গে রেখে যাওয়া মালপত্র ফেলে দেয়ার হুমকিও।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা দুর্দশার কথা জানাতে ও প্রতিকারের আশায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খুলেছেন ‘রাজশাহীর মেসভাড়া মওকুফের দাবি’ নামে একটি গ্রুপ। লকডাউনে শিক্ষার্থীদের আর্থিক দুর্ভোগ লাঘবে ১০ মে নগরীর মেস মালিকদের নিয়ে সভা করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক। শিক্ষার্থীদের আর্থিক কষ্ট লাঘবে এপ্রিল থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া অবধি ৪০ শতাংশ ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়।

মেস মালিক সমিতির নেতারা প্রশাসনের এই মানবিক সিদ্ধান্ত কার্যকরের অঙ্গীকার দিয়ে যান। জেলা প্রশাসন এই বিষয়ে তিনটি শর্ত সংযোজন করে একটি সরকারি নোটিশও জারি করেন। বিষয়টি তদারকির জন্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়। এদিকে জেলা প্রশাসক নোটিশ জারি করলেও ভাড়া মওকুফের নির্দেশ দিলেও মানছে না অনেক মেস মালিক।

কোনো কোনো মেস মালিক ইতিমধ্যে এপ্রিলের ভাড়া আদায় শেষে চলতি মে মাসের অগ্রিম ভাড়ার জন্যও বাড়িতে থাকা শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে এসএমএস পাঠাচ্ছে। বিকাশ খরচসহ দ্রুত ভাড়া পাঠাতে ফোন দিচ্ছে ঘনঘন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ মেস মালিকদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, রাজশাহীতে তালিকাভুক্ত ৪৪৫টি মেসবাড়ি আছে। এর বাইরে আরও দুই শতাধিক অনিবন্ধিত মেস আছে। সব মিলিয়ে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী মেসে থাকেন।

রাজশাহীতে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৫টি মেডিকেল কলেজ, ৭টি সরকারি কলেজসহ ১৬৬টি বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থী নগরীতে বসবাস করেন। এদের ৮০ ভাগই মেসে থাকেন।
অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, শতকরা ১০ ভাগ মেস নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়। বাকি ৯০ ভাগই পরিচালিত হয় অনিয়মের মাধ্যমে।

Facebook Comments