ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২৮ মে ২০২০

বাজারজাতকরণে বাধায় বিপাকে তরমুজ চাষিরা

খুলনা সংবাদদাতা: খুলনার দাকোপের বিভিন্ন এলাকায় অকালবন্যায় গত বছর তরমুজ নষ্ট হলেও এবার ফলন ভালো হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই কৃষকের মুখে হাসি থাকার কথা। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতিতে চাষিদের মুখের হাসি নেই। চাষিরা তাদের ফসল ঠিকমতো বাজারজাত করতে পারছেন না। এমনকি অন্য এলাকা থেকে ব্যাপারীরা ওই এলাকায় স্বাভাবিকভাবে যেতে পারছেন না। এই অবস্থায় কৃষকরা কাঙ্খিত লাভ পাবেন না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দাকোপ উপজেলার বাজুয়ার তরমুজের সুনাম দেশ জুড়েই রয়েছে। গত ৩০ বছর ধরে দাকোপের পাঁচটি ইউনিয়ন দাকোপ, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব, বানিশান্তা ও বাজুয়ায় তরমুজ চাষ শুরু হয়। তরমুজ চাষে বেশ লাভ, তাই বাজুয়ার দেখাদেখি বর্তমানে বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, রূপসা উপজেলাতেও তরমুজ চাষ হয়েছে। তরমুজের পাশাপাশি ঢেড়শ, মরিচ, বেগুন, করলা, ঝিঙে, বাংগি, তিল, মিষ্টি কুমড়ার চাষও হয়ে থাকে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দাকোপ উপজেলার ৩৩ নম্বর পোল্ডারের পাঁচটি ইউনিয়নে লক্ষ্যমাত্রার বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। অথচ লকডাউন পরিস্থিতির কারণে কৃষক তরমুজের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বছর পাঁচ হাজার ৭৩২ জন চাষি তরমুজ চাষ করেছেন। ৩৩ নম্বর পোল্ডারের বাজুয়া, দাকোপ, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব ও বানিশান্তা ইউনিয়নে গত বছর এক হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।

বাজুয়ার এক কৃষক জানায়, গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবার কৃষকরা বেশি যত্ন সহকারে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু বাজার দরে কোনও রকম খরচটা উঠছে। লাভ তেমন হচ্ছে না। তরমুজ ট্রলার ও ট্রাক ভরে বিভিন্ন বাজার ও ঢাকায় নেওয়ার সময় এক শ্রেণির দালালদের টাকা দিতে হয়। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এ বছর চাষিদের সেটা দিতে হচ্ছে না। কিন্তু লকডাউনের মধ্য বাজারজাত করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

তরমুজ ব্যবসায়ী সামছুর হাওলাদার জানান, এ বছর দাকোপে তরমুজের ফলন ভালো। তিনি প্রতি বিঘা জমির তরমুজ ৪০-৫০ হাজার টাকায় কিনছেন। তিনি জানান, এ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলে আরও বেশি দামে তরমুজ বিক্রি হতো।
দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, এ বছর তরমুজের ফলন ভালো। তবে বাজার দর কম। গত বছর এক বিঘা জমির তরমুজ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর এ বছর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ হলো দাকোপে তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে।

তিনি জানান, দাকোপে এ বছর ৭০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু চাষ হয়েছে এক হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে। স্বাভাবিক পরিবেশ থাকলে দাকোপে এ বছর ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হতে পারতো। কিন্তুচাষিদের লাভ এবার কম হচ্ছে।

Facebook Comments