ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২৮ মে ২০২০

দুশ্চিন্তার শেষ নেই খুদে ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৫ম দফায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। একইসঙ্গে সবকিছু বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে খুব খারাপ সময় পার করছেন দেশের খুদে ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর পরিস্থিতিও একই। তাদের অবস্থা এখন সংকটময়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুশ্চিন্তার শেষ নেই এই খুদে ব্যবসায়ীদের। গত সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুদে ব্যবসায়ীরা এমনটিই জানিয়েছেন।

মিরপুর-৭ নম্বরের বিসমিল্লাহ কাটিং অ্যান্ড ফিটিং টেইলার্স মালিক ইসমাইল হোসেন বলেন, একটুও ভালো নেই। খুব খারাপ সময় পার করছি। গত পাঁচদিন ধরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দোকান খোলা রাখছি। কিছু কাপড় বানানোর অর্ডারের আশায়।
সাধারণ ছুটির একমাস কীভাবে চলেছেন, এ বিষয়ে তিনি বলেন, জমানো যা টাকা ছিল, তা দিয়ে চলেছি। টাকাও শেষ। ঘর ভাড়া দিতে হবে। দোকান ভাড়া দিতে হবে। বাজার করতে হবে। একেবারে দেয়ালে পিঠে ঠেকে যাওয়ার মতো অবস্থা। না পারতে ছুটি শেষ হওয়ার আগেই দোকান খুলেছি। বাঁচতে তো হবে। কিছু করে খেতে তো হবে। আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এই ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠব?

মিরপুর ১০ নম্বরের ফরুক রেস্টুরেন্টের মালিক ফারুক বলেন, ইফতারির কোনো বেচা-কেনা নেই। ইফতারি কিনতে তেমন মানুষজন আসে না দোকানে। আসরের নামাজের পরেও ইফতারির দোকানে ভিড় থাকে না। ভাবা যায়! গত বছর এই সময় ইফতারি বিক্রি করে দম ফেলার সময় পাইনি। আর এখন রাস্তায় মানুষজন নেই। কী হয়ে গেলো?
বেচা-কেনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল যা বিক্রি করেছি, এই টাকা দিয়ে আমার কর্মচারীদের বেতনই হয়নি। ইফতার বিক্রি করতে এসে এখন মাছি মারা ছাড়া আমাদের আর কোনো কাজ নেই! এমন একটা অবস্থা। কোনো ক্রেতা নেই। সামনে ঈদ, কর্মচারীদের কীভাবে বেতন-বোনাস দেব, তাই এখন মাথায় ঢুকছে না।

মিরপুর-১১ নম্বরের মা-বাবা ভেরাইটিজ স্টোরের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম বলেন, ২৫ দিন পরে আজকে দোকান খুললাম। এর আগে মাঝে মাঝে দোকান খুলতাম। প্রশাসনের লোকজন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যেতাম।
সাধারণ ছুটির মধ্যে দোকান বন্ধ রেখে কীভাবে চলেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের দুঃখ-কষ্ট আমাদের কাছেই থাক। কাউকে বলতে চাই না। বলেও বা কী হবে? আমাদের ক্ষতি তো আর কেউ পুষিয়ে দিতে পারবে না।

Facebook Comments