ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২৮ মে ২০২০

আর্থিক সংকটে পড়েছে সেমাইপল্লির শ্রমিকরা

বগুড়া সংবাদদাতা: লকডাউনের প্রভাবে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বগুড়ার সেমাই পল্লিখ্যাত নিশ্চিন্তপুর, বেজোড়া, ঘাটপাড়া, শ্যামলা কাথিপাড়া, শ্যামবাড়িয়া, কালসিমাটি, রবিবাড়িয়াসহ প্রায় ১০টির অধিক গ্রামের সেমাই তৈরির কাজে লিপ্ত থাকা শতশত শ্রমিক ও ব্যবসায়ী।

বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলায় এসব গ্রামের অবস্থান। গ্রামের সাদা সেমাই তৈরির কারখানাগুলোতে কাজ করেন প্রায় ছয় শতাধিক শ্রমিক। সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সেমাই কারখানার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখেন ওই গ্রামগুলোর শ্রমিক।

প্রতিবছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রমজান মাসে সাদা সেমাইয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে বলে এ সময় এর উৎপাদনও বেড়ে যায়। কিন্তু এবার লকডাউনের কারণে সেমাই উৎপাদনে টানা পড়ে। এতে অসংখ্যক শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিবছর এ সময়টায় পাল্লা দিয়ে কাজ করতেন সেমাইপল্লির কারিগররা। কিন্তু এবার কাজ নেই। নেই চাহিদা, সেসঙ্গে ঘুরছে না মেশিন। আর তাই পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেমাই সরবরাহ করতে পারছেন না কারখানা মালিকরা। তাইতো সীমিত আকারে চলছে সেমাই তৈরির কাজ।

প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় রেকর্ড পরিমাণ সেমাই তৈরি করেন কারখানার মালিক-শ্রমিকরা। কিন্তু এবারে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। পবিত্র রমজান শুরুর আগে থেকেই সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারাদেশের মত বগুড়ার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক দফায় বাড়িয়ে তা ১৬ মে পর্যন্ত বলবৎ রাখা হয়। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন গত ২১ এপ্রিল পুরো জেলাকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা দেন।

নিশচিন্তপুর গ্রামের সেমাই কারখানার মালিক সোলায়মান মিয়া বলেন, সেমাই কারখানাগুলোতে প্রতিবছরের মতো এবার চিত্রটা ভিন্ন। লকডাউনের কারণে সেমাই উৎপাদন থমকে ছিলো। প্রতিবছর যেখানে রমজানের আগে থেকে কারখানায় প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলতো কর্মকান্ড সেখানে সারাদেশসহ বগুড়ায় লকডাউনের কারণে রমজানের মধ্যবর্তিতে এসেও ঘুরছে না মেশিন, সেমাই তৈরির কাজ চলছে সীমিত আকারে।

কারখানার মালিক সোলায়মান মিয়া বলেন, যেহেতু ১০ মে থেকে সরকারের সিদ্ধান্তে সীমিত পরিসরে দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয় সেজন্য শ্রমিকরা ছুটে আসেন কারখানাগুলোতে। আর তাই তখন থেকে সেমাইপল্লির কিছু কারখানা কিছুটা ব্যস্ত হয়ে ওঠে। চিকন সাদা সেমাই তৈরিতে পাড়ায় পাড়ায় শুরু হয় মালিক ও কারিগরদের কর্মব্যস্ততা।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরে তার কারখানায় কাজ করছেন ১৪-১৮ জন শ্রমিক। সেমাইয়ের চাহিদা না থাকায় এবার কাজ করছেন ৬ জন শ্রমিক। এর আগে তার কারখানায় ৫০ কেজি ওজনের ৩৫০ বস্তার মতো ময়দার সেমাই তৈরি হতো। এবছর সেখানে মাত্র ৫০ বস্তা ময়দার সেমাই তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিন্তু যেহেতু ঈদ পর্যন্ত পরিবহন বন্ধ থাকবে এ কারণে সেমাই জেলার বাইরে বিক্রিতে সংশয় রয়েছে। তিনি বলেন, বগুড়ার উৎপাদিত সাদা সেমাই স্ব-জেলাসহ উত্তরবঙ্গের রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো।

Facebook Comments