ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২৮ মে ২০২০

আরও কমেছে চালের দাম

আরও কমেছে চালের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দফায় দফায় অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর এখন কমছে চালের দাম। ১০ দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে দুই দফায় কমেছে চালের দাম। এর মাধ্যমে লকডাউন শুরু হওয়ার আগের দামে ফিরে গেছে বেশিরভাগ চালের দাম। একদিকে চাহিদা কম অন্যদিকে বাজারে নতুন ধানের চাল আসায় এই দাম কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চালের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১০ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় চালের দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে গত দুই দিনে কেজিতে চালের দাম কমেছে তিন টাকা। তবে কিছু কিছু পুরাতন চাল এখনও এক সপ্তাহ আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, লকডাউনের শুরুতেই চাল বিক্রি বেড়ে যায়, এতে দামও বাড়ে। এরপর বিক্রি কমলে মাঝে দাম কিছুটা কমে। তবে রোজার আগে আবার চালের চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়ে যায়। এখন বাজারে নতুন চাল আসছে, কিন্তু বিক্রি অনেক কমে গেছে।

দাম কমার তালিকায় রয়েছে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা। বর্তমানে মাঝারি মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, যা দুদিন আগে ছিল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা এং রোজার আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা। আর আগে ছিল ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। অর্থাৎ দুই দফায় দাম কমে মাঝারি মানের চালও আগের দামে ফিরে গেছে। চিকন ও মাঝারি মানের চালের দাম কমলেও নতুন করে গরিবের মোটা চালের দাম কমেনি। গত সপ্তাহের মতো মোটা চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা, যা রোজার আগে ৫০ টাকা পর্যন্ত উঠে ছিল। আর আগে ছিল ৩২ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে।

এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও দুদিনের ব্যবধানে চিকন ও মাঝারি চালের দাম কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে মোটা চালের দামও। ১০ মে থেকে তিন ধরনের চালের দামই কমেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে চিকন চালের দাম ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ, মাঝারি চালের দাম ৫ শতাংশ এবং মোটা চলের দাম ২ দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে।

খিলগাঁও তালতলার চাল ব্যবসায়ী জানে আলম ভূঁইয়া বলেন, নতুন চালের কারণে এখন চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে পুরাতন চাল এখনও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, চিকন চালের পাশাপাশি নতুন আসা পাইজাম ও লতা চালের দামও কিছুটা কমেছে। আর মোটা চাল নতুনটা এখনও বাজারে সেইভাবে আসেনি। যে কারণে মোটা চালের দাম নতুন করে কমেনি। তবে এখন সব ধরনের চালের বিক্রি কম। আগে দিনে যে চাল বিক্রি করেছি, এখন তার ১০ ভাগের এক ভাগও বিক্রি হয় না।

রামপুরার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, মিনিকেট, নাজির, পাইজাম ও লতা চালের দাম আরও কমেছে। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকার পর্যন্ত। বাজারে নতুন চাল আসায় এবং বিক্রি কম হওয়ায় এই দাম কমেছে। তবে সামনে চালের বিক্রি বাড়লে তখন হয় তো আবার দাম বাড়তে পারে।

Facebook Comments