ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ০৩ জুন ২০২০

৫০ টাকার তরমুজ ঢাকায় এসে ২৫০

৫০ টাকার তরমুজ ঢাকায় এসে ২৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার বাজারে আসতে শুরু করেছে তরমুজ। তবে দাম তুলনামূলক বেশি। মাঝারি আকারের একটি তরমুজ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৩০০ টাকার ওপরে। রাজধানীতে তরমুজের এমন চড়া দাম হলেও কৃষকরা দাম পাচ্ছেন না।

রাজধানীতে যে তরমুজ পাওয়া যায় তার বড় অংশই আসে পটুয়াখালী থেকে। স্থানীয়  লোকজন থেকে জানা যায়, পটুয়াখালীতে ১৫ কেজি ওজনের তরমুজ ১০০ পিস বিক্রি হচ্ছে ২৫ হাজার টাকায়। এছাড়া ১০০ পিস ১০ কেজি ওজনের তরমুজ ১৮ হাজার, ৮ কেজি ওজনের তরমুজ সাড়ে ৯ হাজার এবং ৫ কেজি ওজনের তরমুজ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ৫ কেজি ওজনের এক পিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়, যা পটুয়াখালীতে মাত্র ৫০ টাকা। ৮ থেকে ১০ কেজি ওজনের তরমুজের পিস বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, যা পটুয়াখালীতে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার নিচে।

এদিকে কোনো কোনো ব্যবসায়ী তরমুজ ওজনেও বিক্রি করছেন। ক্রেতা যেভাবেই নিক দামের খুব একটা হেরফের হচ্ছে না। কারণ ওজনে তরমুজের কেজি বিক্রি করা হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে। সে হিসাবে ৮ কেজি ওজনের একটি তরমুজ ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

রামপুরায় ভ্যানে তরমুজ বিক্রি করা শরিফ বলেন, আমরা বাদামতলী থেকে তরমুজ কিনে আনি। অল্প লাভে বিক্রি করে দেয়। বাদামতলীতে তরমুজের দাম এখন একটু বেশি। তাছাড়া মাল আনতে গেলে অনেক সময় পুলিশে বাধা দেয়। অনেক রাস্তা ঘুরে মাল আনতে যাই।

এই ব্যবসায়ী বলেন, কয়েক বছর ধরেই আমি তরমুজের মৌসুমে তরমুজ বিক্রি করি। তরমুজের মৌসুম বেশি দিন থাকে না। আবার খেতেও তরমুজ বেশি দিন রাখা যায় না। এখন তরমুজের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। বড় বড় তরমুজ আসছে। পরিবহন না চলায় দাম এখন একটু বেশি। তবে এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে তরমুজের দাম কমে যাবে।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মনি বলেন, তরমুজ বাজারে আসছে কয়েদিন হলো। শুরুতে দাম একটু বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এখন যে তরমুজ ৩০০ টাকায় বিক্রি করছি, ১৫ দিন পরে এই তরমুজ ১৫০ টাকায় বিক্রি হবে। এখনকার তরমুজ তো আর সবাই কিনবে না।

এ সময় পটুয়াখালীর দামের চিত্র তুলে ধরলে এই ব্যবসায়ী বলেন, পটুয়াখালীর সঙ্গে আমাদের এখানে তুলনা করলে হবে না। বাদামতলী থেকে তরমুজ কেনার পর এখানে আনতে গড়ে প্রতিটির পেছনে আরও ২০ টাকা করে খরচ হয়। এছাড়া দোকান ভাড়া আছে। আবার মাল আনতে পথেও অনেক ঝামেলা। সবকিছু বিবেচনা করলে দেখবেন আমরা খুব একটা লাভ করি না।

সেলিম রায়হান নামে এক তরমুজ ব্যাবসায়ী জানান, পটুয়াখালীতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে দাম না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। গলাচিপা দরিবাহের চর এলাকার কৃষাণী ফাহিমা বেগম বলেন, ৩ কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রতি কানিতে জমি আর ওষুধে খরচ ১ লাখ, বদলায় ৫০ হাজার। যদি করোনাভাইরাস না হতো তাহলে এগুলো ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু এখনতো চালান আসছে না। ঢাকায় যেতে গাড়িভাড়া ৭০ হাজার টাকা, সড়কের চাঁদা, লেবার খরচ। এখন খরচ উঠবে কি-না তাই সন্দেহ।

গলাচিপা চরের কৃষক মো. সোবহান বলেন, গত বছর ১০০ তরমুজ ৩০ হাজার টাকায় খেত থেকে কিনে নিয়ে গেছে। এখন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে কষ্ট হচ্ছে।

Facebook Comments