ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ০৩ জুন ২০২০

ভার্জিন অস্ট্রেলিয়াকে মাটিতে নামাল করোনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একে তো বিশাল অংকের ঋণের বোঝা, তার ওপর করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসায় মন্দা। এ দুই প্রতিকূল সোতের সঙ্গে আর পেরে উঠল না ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া। দুঃসময়ের সঙ্গে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম আকাশসেবা সংস্থাটি শেষ পর্যন্ত ঋণখেলাপি হওয়ার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। কোম্পানিটি পরিচালনার ভার স্বতন্ত্র প্রশাসকের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান স্টক এক্সচেঞ্জে দেয়া এক ঘোষণায় ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা তাদের ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করলেও কোম্পানিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত এখন থেকে ভলান্টারি অ্যাডমিনিস্ট্রেটরই নেবে।

ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার এ পতনকে বৈশ্বিক আকাশসেবা খাতের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে তারাই সবচেয়ে বড় এয়ারলাইনার হিসেবে ভেঙে পড়ল।

ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার মাথায় রয়েছে ৫০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের (৩২০ কোটি মার্কিন ডলার) বেশি ঋণের বোঝা। এর ওপর কোম্পানিটির আয়ও বন্ধ। করোনাভাইরাসের শুরু হতেই আকাশপথে যাত্রী চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিভিন্ন দেশ। এতে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচলও স্থবির হয়ে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত মাস থেকে নিজেদের সিংহভাগ ফ্লাইটই বন্ধ রেখেছে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া। চলমান আর্থিক সংকট নিরসনে অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে ১৪০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের ঋণসহায়তা চেয়েছিল কোম্পানিটি। কিন্তু ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার সিংহভাগ শেয়ারহোল্ডার বিদেশী হওয়ায় এ আবেদন প্রত্যাখ্যান করে সরকার।
ইতিমধ্যে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া এরই মধ্যে এক হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। এর ১০ হাজার পাইলটের মধ্যে চাকরি হারিয়েছে আট হাজার জন। অস্ট্রেলিয়ায় পূর্ণাঙ্গ সেবাদানকারী কেবল দুটো এয়ারলাইনারই রয়েছে। একটি ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া, আরেকটি জাতীয় পতাকাবাহী কানতাস। ফলে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার পতন মানে দেশটির পুরো আকাশসেবা খাতের জন্যই বিপদ।

Facebook Comments