ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ২৫ মে ২০২০

করোনাতে হার্ড ইমিউনিটি ডেভলপমেন্ট করেই বাঁচতে হবে, জরিপে আবার প্রমাণ

করোনাতে হার্ড ইমিউনিটি ডেভলপমেন্ট করেই বাঁচতে হবে, জরিপে আবার প্রমাণ

নিউজ ডেস্ক : আবারও প্রমাণিত হয়েছে করোনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার পর এবার ম্যাসাচুসেটস এর চেলসিতেও এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে ২০০ মানুষের ওপর পরীক্ষা করে প্রায় এক তৃতীয়াংশের মধ্যে কভিড-১৯ সম্পর্কিত এন্টিবডি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ তারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকার কারণে নিজে নিজেই সুস্থ হয়েছেন। যা আবারও প্রমাণ করছে করোনাভাইরাস আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি ছড়িয়ে গেছে, তবে যা ভাবা হচ্ছে ততো ভয়ানক নয়।

ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, রক্তের ২০০ স্যাম্পলের মধ্যে ৬৪টিতে কভিড-১৯ সম্পর্কিত এন্টিবডি পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় অংশ নেয়া সবাই সুস্থ, তবে তাদের প্রায় অর্ধেকের মধ্যে করোনার অন্তত একটি উপসর্গ গত একমাসে ছিল । ইতিপূর্বে যাদের করোনা পজিটিভ ছিল তাদের এ জরিপে নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে গবেষকদের অন্যতম ডা. ভিভেক নারানভাই বলেন, ‘এ জরিপ প্রমাণ করে না যে ম্যাসাচুসেটস এর এক তৃতীয়াংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং নিজে নিজে সেরে উঠেছে। তবে এটি একটি ইংগিত বহন করছে। আর তা হচ্ছে করোনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যা থেকে মুক্তির উপায় হতে পারে হার্ড ইমিউনিটি।

হার্ড ইমিউনিটি হচ্ছে জনসাধারণের মধ্যে এ রোগ ছড়াতে বাধা না দিয়ে পরোক্ষভাবে সুরক্ষা দেয়া। এটি সম্ভব হয় যখন সমাজের বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী করা বা টিকা দিয়ে এন্টিবডি তৈরী করা যায়। তাহলে সবাই রোগ থেকে এমনিতেই সুরক্ষা পাবে। এন্টিবডি হচ্ছে এক ধরণের প্রোটিন যা রক্তে তৈরী হয় এবং রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

জরিপের প্রধান গবেষক ডা. জন ল্যাফরেট বলেন, ‘এটা একইসঙ্গে দুঃসংবাদ এবং সুসংবাদ। উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে স্বাভাবিক চলাফেরা করা অনেকেই জানেনা তারা করোনা বহন করছে। আর ইতিবাচক দিক হচ্ছে অনেকেই নিজে নিজে সেরে উঠছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয়।’

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি বলে ইতিপূর্বে আমেরিকার আরেকটি গবেষণায় উঠে এসেছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টিতে ৩ হাজার ৩০০ মানুষের এন্টিবডি পরীক্ষা করেন। এতে দেখা যায় ২.৫-৪.২ শতাংশ মানুষের দেহে এন্টিবডি তৈরী হয়েছে। অর্থাৎ তারা কভিড-১৯ থেকে আরোগ্য পেয়েছেন।

ওই কাউন্টিতে মানুষ আছে প্রায় ২০ লাখ। এন্টিবডি পরীক্ষার ফলাফল বলছে ওখানকার ৪৮ থেকে ৮১ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ সরকারি হিসাবে ওই সময় সেখানে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো ৯৫৮ জন। তার মানে হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি করোনায় আক্রান্ত।

সূত্র: আরটি

Facebook Comments