ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ২৫ মে ২০২০

কক্সবাজারে গরু জবাই করায় অর্থদন্ড, জেলার ডিসিকে লিগ্যাল নোটিশ

‘ইসলামিক স্টাডিজ’ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করায় লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গরু জবাইকে সরকারি আদেশ অমান্যের অপরাধ আখ্যায়িত করে গরু জবাই করা ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করায় কক্সবাজার জেলার ডিসিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত উনার সম্পাদক আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলম। সুর্প্রীম কোর্টের আইনজীবি শেখ ওমর শরীফ ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান।
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল কক্সবাজার জেলার ডিসি গরু জবাই করায় এক ব্যক্তিকে জরিমানা করে তার ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দেয় ‘আজ সরকারি আদেশ অমান্য করে গরু জবাই করার অপরাধে দশ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয়া হয়। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন। অনথ্যায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোটিশে এই স্ট্যাটাসকে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর আখ্যায়িত করে নোটিশদাতা বলেন, বাংলাদেশের কোনো আইনে গরু জবাই করা নিষিদ্ধ নয়। করোনা পরিস্থিতিতেও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গরু জবাই নিষিদ্ধ করে কোনো প্রজ্ঞাপন/নির্দেশনা/আদেশ প্রদান করেনি। কক্সবাজার ছাড়া বাংলাদেশের অন্য ৬৩টি জেলার কোথাও এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার কথা শোনা যায়নি।
নোটিশে সংবিধানের উদ্বৃত্তি দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ মোতাবেক “…আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহারলাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষতঃ আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।” সুতরাং সুনির্দিষ্ট আইন ছাড়া বাংলাদেশে গরু জবাই করার জন্য কাউকে শাস্তি প্রদান স্পষ্টই অসাংবিধানিক। বাংলাদেশে সংবিধানপরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা এমনকি জাতীয় সংসদেরও নেই। সরকারি কোনো আদেশ/নিষেধ/নির্দেশনা কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের সংবিধান ও দেশে প্রচলিত আইনের পরিপন্থী হতে পারবে না। এমতাবস্থায় আপনি কোন্ আইনে গরু জবাই করার কারণে শাস্তি দিলেন সেটা নিয়ে দেশব্যাপী সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পার্শ্ববর্তী একটি দেশে উগ্র ধর্মান্ধরা গরু জবাই করলে বেআইনিভাবে মুসলিমদেরকে নিগৃহীত করে বলে বিশ্ব মিডিয়ায় বিভিন্ন সময়ে খবর এসেছে। আপনি সেই দেশের উগ্র ধর্মান্ধদের কিংবা বাংলাদেশে তাদের তল্পিবাহকদেরকে খুশি করার এজেন্ডা কক্সবাজারে বাস্তবায়ন করছেন কিনা দেশের বিভিন্ন মহলে এমন বিভ্রান্তিও সৃষ্টি হয়েছে।

নোটিশদাতা আরো বলেন, আমার মক্কেল বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মী। বাংলাদেশের একজন সম্মানিত নাগরিক হিসেবে কক্সবাজারে গরু জবাইয়ের কারণে শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় আমার মক্কেল সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। দৃশ্যত আপনি গরু জবাইয়ের ক্ষেত্রে সংবিধানপরিপন্থী শাস্তি প্রদান করেছেন এবং গরু জবাই নিষিদ্ধ করে বেআইনি আদেশ জারি করেছেন। আপনি বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন। প্রজাতন্ত্রের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে আপনার কাছে এটা মোটেও প্রত্যাশিত নয়।

নোটিশ পাওয়ার ৩ দিনের মধ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধকরণের কথিত ‘আদেশ’ প্রত্যাহার, বেআইনিভাবে যাদের জরিমানা করা হয়েছে সসম্মানে তাদের অর্থ ফেরত এবং ডিসির নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চাওয়ার কথা নোটিশে বলা হয়। অনথ্যায় নোটিশদাতা আইনের আশ্রয় নিবেন বলে নোটিশে উল্লেখ করেন।

Facebook Comments