ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ১১ এপ্রিল ২০২০

বেড়েছে মশা, নগরবাসীর মনে গত মৌসুমের ভয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: গতবছর ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে (আগস্ট-নভেম্বর) মশার ভয়াবহতা রাজধানীবাসীর মধ্যে যে ভয় ঢুকিয়েছিল, তা এখনো কাটেনি বলা যায়। এর মধ্যে ফের রাজধানীতে বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত সর্বত্রই মশার আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরজীবন। মশার এই উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় নগরবাসীকে তাড়া করছে গত ডেঙ্গু মৌসুমের ভয়।

জানা গেছে, গত মৌসুমে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসা নেন। গত ১০ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সরকারি হিসাবেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৩৩ জন। ওই ভয়াবহতার কারণে সেই মৌসুমে মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে তৎপর হয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

কিন্তু গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নগরের দুই ভাগেই মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা যায়। সেজন্য জানুয়ারির শেষ দিক থেকে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। আর এখন পরিস্থিতি আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। ফলে নগরবাসী দিন পার করছেন গত মৌসুমের ভয়াবহতা ভেবে।

বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এডিস মশার পাশাপাশি ইদানীং কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে ঢাকায়। কার্যকর পূর্ব প্রস্তুতি না নিতে পারলে আগামীতে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে। সেজন্য মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। যদিও এডিস ও কিউলেক্স মশা নিধনের পদ্ধতি ভিন্ন ধরনের। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশন এক্ষেত্রে টেকসই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। নইলে আসছে মৌসুমে নগরবাসীর কপালে দুর্ভোগ আছে।

মশার উপদ্রব সম্পর্কে রাজধানীর হাজারীবাগের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, গত মৌসুমে ডেঙ্গু মারাত্মক রূপ নেয়ার ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছে রাজধানীবাসী। বছরব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি তখন এতটা ভয়াবহ রূপ নিত না। ইদানীং মশার উপদ্রব আবারও বেড়ে গেছে। এতই বেড়েছে যে, ঘরে-বাইরে সব জায়গায় মশা কামড়াচ্ছে। কোথাও শান্তি নেই। দিন নেই, রাত নেই সব সময়ই মশার উৎপাত।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন খুব বুলি আওড়াচ্ছে যে, তারা নাকি মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগই আমরা দেখতে পাচ্ছিনা। আমাদের আশ-পাশের এলাকার কেউ বলতে পারবে না যে, তারা গত কিছুদিনের মধ্যে কোনো মশক নিধনকর্মীকে ওষুধ ছিটাতে দেখেছে। তাদের দেখাই পাওয়া যায় না। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে মশার উৎপাত এত বাড়ে যে মশারি ছাড়া টেকাই যায় না। কিন্তু মশারির মধ্যে আর কত সময় থাকা যায়? কর্তৃপক্ষের উচিত, নগরবাসী যেন গতবারের মতো না ভোগে, সেই ব্যবস্থা নেয়া।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাম্প্রতিক এক জরিপেও মশার উপদ্রবের উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১২% এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১০% এলাকায় এডিস মশার লার্ভার ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। মশার অত্যাচার বাড়লেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, তারা এ বিষয়ে কাজ করছে।

Facebook Comments