ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ০১ এপ্রিল ২০২০

পোশাক খাত: বায়ারদের স্বেচ্ছাচারিতায় একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) তথ্যমতে ২০ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কাঁচামাল সরবরাহ সংকটে পড়তে হয়েছিল পোশাক খাতকে। মুসলিম দেশগুলো থেকে কাচামাল সংগ্রহের আহবান জানানো হলেও পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা এতে কর্ণপাত করেনি। ফলে চীনে গজবস্বরূপ করোনা হানা দেয়ায় কাচামাল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যদিও বিশ্বের আরও বহু কাচামাল সংগ্রহের বাজার রয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধান না করায় সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে পোশাক খাতকে।

তথ্যমতে, সর্বশেষ ৪ ঘণ্টায় বিজিএমইএর সদস্য ২০ প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ৭২ লাখ ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। স্থগিত হয়েছে ১৩ লাখ ৩৮ হাজার ডলারের ক্রয়াদেশ।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক এ বিষয়ে বলেন, ক্রেতাদের বিবেক কোথায়? আমাদেরকে চাপ প্রয়োগ করার সময় তারা অন্য কিছু চিন্তা না করে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অবহেলা হচ্ছে বলেন। কিন্তু এ সময়ে এসে তারা শুধু ব্যবসার কথা ভাববেন আর মানুষের কথা ভুলে যাবেন, এটা তো হয় না। তাদের আর আমাদের বাস্তবতা ভিন্ন। তাদের হলো মুনাফার আর আমাদের হচ্ছে বাঁচার বাস্তবতা। আমরা এখন কোথায় দাঁড়াব? আমাদের এত কর্মী, সামনে ঈদ আছে, বোনাস আছে।

এভাবে যদি কার্যাদেশ বাতিল হতে থাকে, তাহলে কী হবে? এমন প্রশ্ন তুলে রুবানা হক বলেন, ক্রেতারা যখন বলে আপনারা কাপড় কাটবেন না, তখন ওই কাপড়ের আর কোনো ভবিষ্যৎ থাকে না। এ কাপড় কবে নেবে কিছুই জানি না আমরা। এসব কাপড়ের বিপরীতে ক্রয়াদেশ দেয়ার কথা এপিল-মে মাসে। কিন্তু ক্রেতারা এখন কোনোটাই প্লেস করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ভেবে দেখতে হবে। এদিকে তারা আমাদেরকে বলছেন পণ্য গুদামজাত করে রাখতে। সব মিলিয়ে বলা যায়, এবার রফতানি অনেক কমে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতের কাচামাল এককভাবে চীন থেকে সংগ্রহ করা যায় যা দেশের পোশাক খাতের জন্য একটি শঙ্কার বিষয়। কারন চীন থেকে কাচামাল বন্ধ হয়ে গেলে বিপদে পড়ে পোশাক খাত। এক্ষেত্রে পোশাক খাত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, বিশ্বের অন্যান্য কাচামাল সরবরাহকারী দেশ বিশেষ করে যেসব মুসলিম দেশ পোশাক খাতের কাচামাল সরবরাহ করে তাদের সাথে একটি স্থায়ী চুক্তির ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি পোশাক রফতানির জন্যও ভিন্ন ভিন্ন দেশের বায়ারদের সাথে চুক্তি করা। এতে করে আমেরিকান বায়ারদের প্রভাব ধ্বংস হবে দেশের পোশাক খাত থেকে।

Facebook Comments