ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ০৪ এপ্রিল ২০২০

কুল চাষে প্রথমবারেই বাম্পার মুদি ব্যবসায়ী

কুল চাষে প্রথমবারেই বাম্পার মুদি ব্যবসায়ী

শরীয়তপুর সংবাদদাতা: প্রথমবারের মতো কাশ্মীরি আপেল কুল চাষ করে সফল হয়েছেন শরীয়তপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের স্বর্ণঘোষ গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী আওলাদ হোসেন ফকির। নতুন জাতের এ কুল চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন তিনি।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কাশ্মীরি আপেল কুলের চারা ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আনা হয়। শরীয়তপুর পৌরসভার স্বর্ণঘোষ গ্রামের কৃষক আওলাদ হোসেন ২০১৮ সালে চুয়াডাঙ্গার একটি নার্সারি থেকে এ জাতের কুলের চারা শরীয়তপুরে আনেন। ওই বছরের মার্চ মাসে তিনি ৩০ শতাংশ জমিতে ১৫০টি কাশ্মীরি আপেল কুলের চারা রোপণ করেন। রোপণের ১০ মাসের মাথায় চারাগুলো পরিপক্ক হয় এবং গাছে ফুল আসে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে গাছে ধরে কাশ্মীরি আপেল কুল। প্রতি গাছে ৫০-৬০ কেজি করে কুল ধরেছে। এর আগে শরীয়তপুরে আর কোনো কৃষক এ জাতের কুলের বাগান করেননি।

আওলাদ হোসেন ফকির বলেন, কৃষি বিষয়ক প্রতিবেদন দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিই কাশ্মীরি আপেল কুল চাষ করবো। তখন চুয়াডাঙ্গার একটি নার্সারি থেকে ১৫০টি কাশ্মীরি আপেল কুলের চারা সংগ্রহ করি। ৩০ শতাংশ জমিতে ওই চারা লাগাই। ১০ মাসেই ফলন আসে। ওই কুল বাজারে বিক্রি শুরু করেছি। প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে ৬০ কেজি করে কুল উৎপাদন হবে। কুলগুলো খুব সুস্বাদু। প্রথমে বাগানটি গড়ে তুলতে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। আসা করি কুল বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে লাখ টাকা লাভ হবে।

তিনি বলেন, শরীয়তপুরের মাটিতে কাশ্মীরি আপেল কুলের বাম্পার ফলন হবে। যেমনটি হয়েছে আমার। এখানকার মাটি অনেক ভালো। যে কেউ সহজে এটি চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমীর হামজা বলেন, শরীয়তপুরের মাটিতে নতুন জাতের কাশ্মীরি আপেল কুল চাষ করে প্রথমবারের মতো সাফল্য দেখিয়েছেন আওলাদ। কুল চাষে অল্প সময়ে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ এলাকার জমির মাটি ওই কুল আবাদের জন্য উপযোগী। এখানকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে কাশ্মীরি আপেল কুল আবাদের জন্য। ভবিষ্যতে কেউ এ ফল রোপণ ও চাষ করতে চাইলে কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা করা হবে।

Facebook Comments