ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ০২ জুলাই ২০২০

সড়কপথকে একক প্রাধান্য: তীব্র যানজটের বন্দরে বাড়ছে পণ্যজট

জট কমাতে কন্টেইনার পাঠানো হচ্ছে পানগাওয়ে

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: চট্টগ্রাম বন্দরে গত বছর ৩১ লাখের মতো একক কনটেইনার ওঠানামা হয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ৯৪ শতাংশ পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে সড়কপথে, মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। পণ্য পরিবহনে সড়কপথের এই প্রাধান্যে একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দেখা দিচ্ছে তীব্র যানজট, তেমনি বন্দরে পণ্যজটেরও অন্যতম কারণ এটি।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে রেলপথে পণ্য পরিবহন ২০ শতাংশে উন্নীত করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে নৌ-পরিবহন সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি দুই থেকে চার লেনে উন্নীতের কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালে। মহাসড়কটির যে নকশা করা হয়, তাতে যানবাহন চলাচলের প্রাক্কলন করা হয় দৈনিক ১৬ হাজারের মতো। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষন ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্য বলছে, বর্তমানে সড়কটিতে দিনে গাড়ি চলছে ৩২ হাজারের বেশি। যার ৬৫ শতাংশই আবার ভারী যানবাহন।

আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, দেশে যত পণ্য পরিবহন হয়, তার ৮০ শতাংশই হয় সড়কপথে। আর নৌপথে ১৬ ও রেলপথে পরিবহন হচ্ছে ৪ শতাংশ পণ্য। অন্যদিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ৯৪ শতাংশ পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে সড়কপথে। রেলপথে পরিবহন হচ্ছে মাত্র ৬ শতাংশ। মন্ত্রণালয় নৌপথে বন্দরের পণ্য পরিবহনের কোনো তথ্য না দিলেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রায় ১০ শতাংশ পণ্য পরিবহন হচ্ছে নৌপথে।

বন্দরের পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাটি পুরোপুরি সড়কনির্ভর। এতে সড়কের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। যানজটের পাশাপাশি সড়কের আয়ুও কমে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় সড়কের বদলে পণ্য পরিবহনে রেল ও নৌপথকে প্রাধান্য দেয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, উন্নত দেশে পণ্য পরিবহনে রেল ও নৌপথকে গুরুত্ব দেয়। আমরা হাঁটছি উল্টোপথে। সড়কপথের ওপর চাপ কমিয়ে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার সিংহভাগই রেল ও নৌপথনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে ট্রেনে মালামাল পরিবহন ২০ শতাংশে উন্নীত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এখনই বন্দরের ২০ শতাংশ পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা নেই বাংলাদেশ রেলওয়ের।

Facebook Comments