ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ০৬ এপ্রিল ২০২০

সীমান্ত হত্যা: উদ্বেগে সাধারণ মানুষ, নিরুদ্বিগ্ন সরকার!

সীমান্ত হত্যা: উদ্বেগে সাধারণ মানুষ, নিরুদ্বিগ্ন সরকার!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৫ থেকে ২০১৯ এই ৫ বছরেই সীমান্তে ২ শতাধিক বাংলাদেশী নিহত হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে। ২০২০ সালের প্রথম মাসেই ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে।

ভারতের পক্ষে সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি থাকলেও সেটি বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জনগণের মাঝে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। তবে এ বিষয়ে সরকারকে অনেকটাই নিরুদ্বিগ্ন দেখা যাচ্ছে।

সীমান্ত হত্যা নিয়ে দুদেশের সরকারি পর্যায়ে শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং বিজিবি বিএসএফ সম্মেলনে বার বার আলোচনা হলেও সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না।

ভারতীয়দের পক্ষে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার এবং মৃত্যু বন্ধে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেও অঙ্গীকার করা হয়েছিল যে সীমান্ত হত্যা শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যখন প্রতিশ্রুতি আসে তখন এটা প্রত্যাশিত যে প্রতিশ্রুতিটা কার্যক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু আমরা যেটা দেখছি যে গত প্রায় ২০ বছর ধরে, এ জায়গাটাতে প্রতিশ্রুতির সাথে বাস্তবায়নের সামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে না।

বিজিবি কিংবা সরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিবাদ, উদ্বেগ বা অনুরোধ যে খুব কাজে আসছে না, সেটি অনেকটা স্পষ্ট।

বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:

সমালোচনা হয় সীমান্ত হত্যা বন্ধে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারছে সেটি নিয়েও।

“বাংলাদেশের যেকোনো মানুষের সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। এখানে আমাদের কণ্ঠটা একটু সোচ্চার হলে হয়তো ভারতও একটু সক্রিয় হতো, বলেন হুমায়ুন কবির।

এদিকে গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৮ সালে সীমান্ত হত্যা কিছুটা কমলেও সেটি তিনগুন বেড়েছে ২০১৯ সালে।

হিসেবে গড়ে প্রতি সপ্তাহেই ২-১ জন করে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে।

সীমান্তে গুলি এবং মৃত্যুর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিএসএফ-এর যুক্তি আত্মরক্ষার।

তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয় সীমান্ত হত্যার ঘটনায় বিএসএফ এর যুক্তি গ্রহনযোগ্য নয়।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজিবির এক কর্মকর্তা বলেন চলতি মাসে সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন এবং প্রতিটি হত্যার ক্ষেত্রেই জোরালো প্রতিবাদ করা হচ্ছে।

ভারত বাংলাদেশের মধ্যে কোনো যুদ্ধাবস্থা নেই বরং দুই দেশের মধ্যে সম্প্রীতি আর সুসম্পর্ক নিয়ে এখন গৌরব করা হয়। অথচ মৃত্যুর হিসেবে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সীমান্তের অন্যতম কেন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, প্রশ্নটা এখানেই।

Facebook Comments