ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার), ১২ জুলাই ২০২০

ভেজাল কীটনাশকে দিশেহারা কৃষক

জয়পুরহাট সংবাদদাতা: জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে আলুর পচন রক্ষার্থে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করে প্রতারিত হয়েছেন শতাধিক কৃষক। আলু ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

কৃষকদের অভিযোগ স্থানীয় ডিলার ও কোম্পানির প্রতিনিধির প্রতারণার কারণেই তারা আলু ক্ষেত নিয়ে এমন সমস্যায় পড়েছেন। তবে কোম্পানি প্রতিনিধি বলছেন, ডিলার ও কৃষকদের ভুলেই এমন ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা কৃষি নির্ভর জেলা জয়পুরহাট। এখানে মোট কৃষি জমির প্রায় ৪০ ভাগ জমিতেই আলু চাষ করেন কৃষকরা। এ বছরও অনেকটা ধার দেনা করে লাভের আশায় আলু লাগিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মাটির ঘর এলাকার কৃষ্ণনগর মধ্যপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষকরা। আলুর গাছও ভাল হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই আলু গাছে রোগ দেখা দেওয়ায় স্থানীয় কীটনাশক ডিলার রাশেদুজ্জামান দুলালের পরামর্শে এবং তারই কাছ থেকে ইস্পাহানি এগ্রো লিমিটেডের সিল ব্যবহৃত বায়োডার্মা কীটনাশক কিনে তা প্রয়োগ করেন।

কৃষক জানান, কীটনাশক স্প্রে করার দুই/তিন দিন পর থেকেই আলুর পাতায় পচন ও গাছ শুকিয়ে মরতে শুরু করে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১১০ বিঘা জমির আলু গাছে পচন ধরায় তারা পথে বসেছেন। তবে এখনো তারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাননি।

এদিকে স্থানীয় কীটনাশক ডিলার রাশেদুজ্জামান দুলাল সংশ্লিষ্ট ওষুধ কোম্পানিকে দোষারোপ করে বলেন, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরাই কৃষকদের বুঝিয়ে ওষুধ বিক্রি করেছেন। এতে আমার কোনো দোষ নেই। তবে ইস্পাহানি এগ্রো লিমিটেডের বগুড়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক এ অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেন, এই ক্ষতি স্থানীয় ডিলার ও কৃষকদের ভুলের কারণেই হয়েছে।

সম্প্রতি কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া আলুর ক্ষেত পরিদর্শনে এসে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকিম ম-ল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় কৃষি বিভাগকে বলা হয়েছে।  ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত রহমান বলেন, কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত মাঠে গিয়ে সত্যতা পাওয়ায় স্থানীয় কীটনাশক ডিলারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে ওই ডিলারকে। এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, কোম্পানি যদি ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে তাহলে কৃষকদের স্বার্থে একটি মামলা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments