ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারতের হস্তক্ষেপ কামনা সন্তুর!

নিজস্ব প্রতিবেদক: এশিয়াকেন্দ্রীক সাউথ এশিয়ান মনিটরের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সন্তু ভারতে গিয়েছে সেদেশের বিজেপি সরকারের সমর্থন আদায়ের জন্য। জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ কামনার জন্যই ভারত গমন তার।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু উপজাতি অধিকাংশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এই চুক্তি মেনে না দিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত হয়। ফলে শান্তি চুক্তি এখন পর্যন্ত সমাপ্ত করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে সন্তুর অভিযোগ ‘সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়, তারা বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।’ যদিও সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ঠ আন্তরিক। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, সন্তুর হস্তক্ষেপেই পাহাড় প্রতিনিয়ত অস্থিতিশীল হচ্ছে। অর্থাৎ উপরে উপরে শান্তিচুক্তির কথা বললেও আড়ালে বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত এই উপজাতি সন্ত্রাসী নেতা সন্তু।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্যে এবার সে ভারতে চিকিৎসার খাতিরে এসেছে এই আড়ালে নয়া দিল্লিতে উপস্থিত হয়ে শীঘ্রই সরকারি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করতে চাইছে। তার একান্ত বিশ্বাস ভারত সরকারের সমর্থন পাবে সে।

উল্লেখ্য, মোদি তামিলদের স্বায়ত্তশাসনের জন্য দেশটির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য যেভাবে ভূমিকা গ্রহণ করেছে, সেভাবে লারমা নয়া দিল্লিকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে একই ভূমিকা ভারত পালন করলে উপকার হবে।

তবে সন্তুর এই ভারত সফরকে ভয়াবহ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পার্বত্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ পর্যন্ত মিয়ানমার ও ভারত মিলে পাহাড়ে উপজাতি সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও ট্রেনিং দিয়ে পাহাড়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলেছে। পাহাড়ে হাজার হাজার বাঙালিকে হত্যা করেছে উপজাতি সন্ত্রাসীরা। এমন পরিস্থিতিতে আবার সন্তু চিকিৎসার নামে ভারতে গিয়ে ভারতের সমর্থন আদায় করতে চেষ্টা করছে পাহাড়ে হস্তক্ষেপের জন্য। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত হবে অবিলম্বে সন্তুর এইসব দেশবিরোধী কার্যকলাপ কঠোরভাবে নজরদারি করে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। নচেৎ ৩ পার্বত্য জেলা বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

Facebook Comments