ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার), ৩১ মে ২০২০

পবিত্র দ্বীন ইসলাম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও বিবিসি বাংলাকে লিগ্যাল নোটিশ

আনিসুল হক ও বিবিসি বাংলাকে লিগ্যাল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও বিবিসি বাংলাকে দুইটি পৃথক লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার সম্পাদক মুহম্মদ মাহবুব আলমের পক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট শেখ ওমর শরীফ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান।

লিগ্যাল নোটিশসমূহে বলা হয়, সম্প্রতি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় মুসলিম কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের জন্য তিন ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদক শাহনাজ পারভীনের একটি প্রতিবেদন প্রচার করে বিবিসি বাংলা। ওই প্রতিবেদনে নামাজ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মন্তব্য প্রচার করা হয়েছিল। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, “বাংলাদেশের আইনে এরকম কোন বাধ্যবাধকতা দেয়া যায় না। বাংলাদেশের আইন কেন, সংবিধানেই তো বলা আছে ধর্ম কারো উপর চাপিয়ে দেয়া যাবে না। ইসলাম ধর্মও বলে না কারো উপরে ধর্ম চাপিয়ে দেয়া যাবে।”

আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে দেয়া লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, কারখানার মুসলিম কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের জন্য মসজিদে নামাজ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বাংলাদেশে প্রচলিত শ্রম আইন, ২০০৬ আওতায় এই ধরনের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার কারখানা কর্তৃপক্ষের আছে। গাজীপুরের সেই কারখানার কর্তৃপক্ষ বিবিসি বাংলাকে স্পষ্টই বলেছিল, কর্মীদের মধ্যে মতভেদ-দূরত্ব কমানোর একটি উপায় হিসাবে কারখানায় নামাজ বাধ্যতামূলক করার ওই সিদ্ধান্তটি তারা নিয়েছিলেন।

নোটিশে বলা হয়, নামাজ মুসলিমদের জন্য একটি বাধ্যতামূলক ইবাদত। সৎকাজে একে অপরকে আদেশ করাও একটি ইসলামী দায়িত্ব। পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফে মুসলিমদেরকে সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের জন্য বারবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃত এবং নাগরিকদের স্বাধীনভাবে ধর্মপালনের অধিকারও সংবিধানে দেয়া হয়েছে। মুসলিম কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের জন্য মসজিদে নামাজ বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে কারখানা কর্তৃপক্ষ কেবল ইসলামী শরীয়তের নির্দেশ পালন করেছিলেন মাত্র—এতে বাংলাদেশে প্রচলিত আইন বা সংবিধানের কোনো লঙ্ঘন হয়নি। বরং শ্রম আইন, ২০০৬ এবং সংবিধানে উল্লেখিত ধর্মপালনের স্বাধীনতার সীমার মধ্যেই এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। অথচ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কারখানা কর্তৃপক্ষের সেই ধর্মপালনের সিদ্ধান্তকে আইন ও সংবিধান বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, এমনকি এটাকে ইসলাম পরিপন্থীও বলেছেন। বাংলাদেশের আইন ও সংবিধানসম্মত একটি ইসলামী ইবাদতকে আইন ও সংবিধান বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করে আইনমন্ত্রী মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন।

বিবিসি বাংলার হেড অফ নিউজ এবং প্রতিবেদক শাহনাজ পারভীনকে দেয়া লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, নামাজ বাধ্যতামূলক করার মতো একটি ধর্মীয় বিষয়কে বিবিসি বাংলা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টই বলেছিল, এটি একটি শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ এবং অমুসলিম কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তারা নামাজ পড়তে বাধ্য করছেন না। এর পরও বিবিসি বাংলা ওই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারি কর্তৃপক্ষকে ওই কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উসকানি দিয়েছে এবং বিবিসি বাংলা বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছে। বিবিসি বাংলা এই বিষয়ে বাছাইকৃত একজন শ্রমিক নেতার মন্তব্য প্রকাশ করে, যিনি নামাজের বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। বিষয়টি ধর্মীয় আচারের সাথে সম্পর্কিত হওয়া সত্ত্বেও বিবিসি বাংলা ওই প্রতিবেদনে কোনো ধর্মতাত্ত্বিকের মতামত নেয়ার প্রয়োজন অনুভব করেনি। এতে বিবিসি বাংলার অসৎ উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয়।

নোটিশে বলা হয়, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করাটা বাংলাদশে প্রচলিত দণ্ডবিধির ২৯৫(ক) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ডিজিটাল মাধ্যমে এমন ধর্মীয় অবমাননামূলক তথ্য সম্প্রচার করাটা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর ২৮ ধারার অধীনে অপরাধ।

নোটিশে বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশগ্রহীতাগণ সুস্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে নামাজ বিষয়ক মন্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় নোটিশদাতা আইনের আশ্রয় নেবেন বলে নোটিশসমূহে বলা হয়েছে।

Facebook Comments