ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার), ২৯ মার্চ ২০২০

কাজুবাদাম ও কফি চাষে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা

১ বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের তিন পার্বত্য জেলায় অন্তত পাঁচ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে দুই লাখ হেক্টর জমিতে কাজুবাদাম ও কফি চাষ করলে বছরে এক বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। আর এই দু’টি ফসল হতে পারে শীষ রফতানি পণ্যগুলো মধ্যে অন্যতম।

বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও আয়ে চট্টগ্রামের পার্বত্য জেলায় দু’হাজার কফি ও কাজুবাদামের বাগান করার লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তারা একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করবেন।

জানা যায়, প্রকল্প নিতে পারলে পাহাড়ের অন্তত দু’হাজার পরিবার কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। আগ্রহী সংশ্লিষ্ট কৃষককে কফি ও কাজুবাদাম উৎপাদন, চাষ পদ্ধতি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কফি ও কাজুবাদামের চারা সরবরাহ করা হবে বিএডিসি, হর্টিকালচারাল সেন্টার থেকে।

বৈঠক সূত্র জানায়, বর্তমানে সারা বিশ্বে মোট ৩৫ লাখ মেট্রিকটন কাজুবাদাম উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ১২ লাখ মেট্রিকটন উৎপাদিত হয় পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরিকোস্ট, নাইজেরিয়া, ঘানা ও বেনিনে। তবে এসব দেশ কাজুবাদাম প্রসেসিং করতে পারে না। আফ্রিকার দেশগুলো মাত্র ১০ শতাংশ প্রসেসিং করে। এদের কাজুবাদাম ভিয়েতনাম প্রসেসিং করে বছরে চার বিলিয়ন ডলার আয় করছে।

সারা বিশ্বে কাজুবাদামের বাজার ৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ভিয়েতনাম একাই চার বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে। বাকিগুলো ভারত ও পশ্চিম আফ্রিকার কিছু দেশ থেকে রপ্তানি হয়। কাজুবাদামের বড় মার্কেট যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ।

কাজুবাদাম চাষ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কাজুবাদাম চাষ করে বছরে চার বিলিয়ন ডলার আয় করছে ভিয়েতনাম। পার্বত্য চট্টগ্রামেও কফি-কাজুবাদাম চাষ করা হবে। এর চাষপদ্ধতি শেখানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষকদের ভিয়েতনামে পাঠানো হবে। কফি ও কাজুবাদামের চাষ এগিয়ে নিতে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে চারা। তিনি আরও বলেন, কৃষি সম্প্রসারণে ভিন্নতা এসেছে। শুধু পোশাক শিল্প নিয়ে থাকলে হবে না। আমাদের ভিন্ন ভিন্ন পণ্য রপ্তানি করতে হবে। এক সময় ভিয়েতনামে কাজুবাদাম চাষই হতো না।

কাজুবাদাম প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কাজুবাদামে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আমার কাছে এ বিষয়ে প্রকল্প এলে অনুমোদনের ব্যবস্থা নেবো। যাতে পাহাড়ে এর চাষ সম্প্রসারণ করা যায়।

কাজু বাদামের মূল চ্যালেঞ্জ পোস্ট প্রসেসিং ও সংরক্ষণ। আমাদের দেশে সেভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো মেশিন নেই, যাতে পোস্ট প্রসেসিংয়ের কাজ করা যায়। তাছাড়া সংরক্ষণও কেউ ঠিকমতো জানতো না। কাজু এমন একটি ফল যেটি কাঁচা বেশি খেতে পারবেন না। ফলটি হয় দুই স্তরে। উপরের অংশটুকু মোটা। নিচের অংশে বাদাম। এর ভিতরে এক ধরনের আঠাজাতীয় জিনিস থাকে। এটা মুখে বা হাতে লাগলে ঘা হতে পারে। আবার উপরের অংশটি প্রসেস করতে পারলে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল পাওয়া সম্ভব।

Facebook Comments