ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

সৌরবিদ্যুত চালিত স্মার্ট কার উদ্ভাবন করল কলেজছাত্র শাওন

নিউজ ডেস্ক : গাড়িটির নাম স্মার্ট গ্রীন কার। গাড়িটি চালানোর জন্য কোনো জ্বালানির প্রয়োজন নেই। সৌরশক্তির উপর নির্ভর করে চলে গাড়িটি। অটোমেটিক মুড অন করে রাখলেই গাড়িটি নিজে থেকে হর্ন দিতে পারে এবং ব্রেক করতে পারে। ভুলক্রমে পথচারী কিংবা যেকোন যানবাহন গাড়ির সামনে আট ফুটের মধ্যে এসে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ হয়ে যায়। নিজ থেকে সিগনাল বাতি জ্বালিয়ে অন্য গাড়িকে সংকেত দিতে পারে। হেড লাইটের আলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিয়ে দিতে পারে। যখন গাড়ির সামনে অন্য কোনো গাড়ি আসবে তখনই কেবল এটির আলো হাই মুড থেকে লো পাওয়ার মুডে যাবে। এমনকি গাড়িটি চুরি করাও অসম্ভব। কারণ গাড়ির মধ্যে বসানো সফটওয়ারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল করে মালিককে সিগনাল দিতে সক্ষম এবং গাড়ির মালিক গাড়ির ভিতরে সকল সিস্টেম নিজের মোবাইলের ফোনের মাধ্যমেই বন্ধ করে দিতে পারবেন যাতে চোর গাড়ি চালাতে না পারে। এজন্য গাড়ির মালিক সিগনাল পেয়ে নিজের মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই গাড়ির দরজা বন্ধ করে দিতে পারবেন। এমনই একটি গাড়ি উদ্ভাবন করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরের শাহবুবুর রহমান শাওন। যে গাড়িটি দেখতে প্রতিনিয়ত তার বাসায় ও রাস্তায় ভীড় করছে পথচারীসহ অসংখ্য মানুষ।

২৯ ও ৩০ জানুয়ারি বরিশালে অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে ইনোভেশন সো কেসিং মেলা ২০২০ এ শাওনের এ স্মার্ট গ্রীন কারটি প্রদর্শণের জন্য পটুয়াখালী থেকে মনোনীত হয়েছে।

বাংলাদেশ প্লানেটর রোবোটিকস এর ছাত্র শাওন স্কুলজীবন থেকেই এলাকায় ক্ষুদে বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ, সেন্সর লাইট, স্মার্ট সুইস, সি-প্লেন তৈরি করে আগেই কলাপাড়ার মানুষকে তাক লাগিয়েছেন তিনি। এবার বানালেন জ্বালানি ও চালকবিহীন গাড়ি। আটজন ধারণ ক্ষমতার এ গাড়িটি তৈরি করতে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। গাড়িটি তৈরি করতে প্লাস্টিক বোর্ড, লোহার অ্যাঙ্গেল, প্লাস্টিকের গ্লাস, থাই গ্লাস, অটোরিকশার চাকা, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ছাড়াও কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। গাড়িটি চালক ও চালকবিহীন-দু’ভাবে চালানো যাবে। কম্পিউটারের সফটওয়ারের মাধ্যমে প্রোগ্রাম সেট করে চালকবিহীন চলবে। যার গতি ঘন্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার। একবার চার্জে এ গাড়িটি একটানা চলবে প্রায় ১০ ঘণ্টা।

২৯ ও ৩০ জানুয়ারি বরিশালে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় পর্যায়ে ইনোভেশন সো কেসিং মেলা ২০২০ এ শাওনের এ গাড়িটি প্রদর্শণের জন্য ২৮ জানুয়ারি দুপুরে বরিশাল পাঠানো হয়েছে। ওইদিন সকালে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এ গাড়িটি নিয়ে আসলে উৎসুক শতশত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ভীড় করে। তারা নিজে থেকে চলন্ত গাড়ির সামনে হঠাৎ এসে দাড়িয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন গাড়িটি আসলেই রাস্তায় চলাচল করলে দুর্ঘটনা কবলিত হয় কীনা।

গাড়িটি দেখতে আসা কলেজ ছাত্রী স্বর্ণা ও হাওয়া বলেন, এ গাড়িটি একটি অসাধারণ আবিস্কার। গাড়িটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি পরিবেশ বান্ধব। কোন ধরণের জ্বালানী ছাড়া চলার কারনে পরিবেশ দূষণও হবে না। তাছাড়া চলন্ত গাড়ির সামনে পড়ে কেই হতাহত হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কারন চলন্ত গাড়ির সামনে কোন প্রানী বা বস্তু এসে পড়লে গাড়িটি অটো ব্রেক করে ফেলে।

সৌর বিদ্যুত চালিত গাড়িটি দেখতে আসা বাবুল হাসান বলেন, গাড়িটির আরও আধুনিকায়ন করতে সরকারি সহায়তা পেলে বাংলাদেশে এ আবিস্কার ব্যাপক সাড়া ফেলবে। কেননা এটি সম্পূর্ণ দেশী প্রযুক্তিতে তৈরি। সাধারণ মানুষের সামর্থের মধ্যে গাড়িটির দাম।

২০১৫ সালে সি-প্লেন তৈরি করে পরীক্ষামূলক নদীতে চালিয়ে গোটা জেলায় সাড়া ফেলা শাওন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা পেলে তার আবিষ্কৃত গাড়ি ও ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব বলে দাবি করেন। লোকবল পেলে সপ্তাহে একটি গাড়ি তৈরি করতে পারবেন বলে জানান।

শাওন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা হিসেবে বেছে নিয়েছিলো ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি। সেই থেকেই আবিষ্কারের প্রতি ঝোঁক। বাবা-মা তাকে সবসময় সহযোগিতা ও উৎসাহ যুগিয়েছেন। তার তৈরি গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকায় দূর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব হবে। এজন্য গাড়িটি যাত্রীদের জন্য নিরাপদ এবং অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত। সৌরবিদ্যুৎ চালিত এবং জ্বালানি তেল ব্যবহার মুক্ত বিধায় গাড়িটি পরিবেশবান্ধব এবং বিদ্যুৎ খরচ হ্রাস করে। অটোমেটিক সিকিউরিটি সিস্টেমের কারণে গাড়িটি চুরি হওয়া থেকে নিরাপদ থাকবে৷ রাতের বেলায় হেডলাইটের আলো লো করার অটোমেটিক সিস্টেম থাকায় গাড়িটির সামনে অন্য যানবাহনও নিরাপদে চলাচল করতে পারে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালককে জরুরী সময়ে সংকেত দিয়ে ড্রাইভ করতে সহয়তা করে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান বলেন, শাওনের স্মাার্ট গাড়িটি বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে ইনোভেশন সো কেসিং মেলা ২০২০ এ প্রেরণ করেছেন কলাপাড়া থেকে। এটি একটি অসাধারণ উদ্ভাবন। যা পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গোটা দেশের মানুষ উপকৃত হবে। এ গাড়িটি আরও আধুনিকায়ন করতে শাওন যাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগীতা পায় এজন্য তিনি সর্বাত্বক চেষ্টা করবেন বলে জানান।

Facebook Comments