ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শুটকিতে দুর হচ্ছে বেকারত্ব

পাবনা সংবাদদাতা: চলনবিলের দেশীয় মাছের শুটকি এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। অন্যদিকে এখানে দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত শত শত টন শুটকি মাছ বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আড়তে। উৎপাদনকারীরা বলছেন, এসব শুটকি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং রাসায়নিক মুক্ত। পুষ্টিবিদদের মতে, তাজা মাছের চেয়ে এখানে উৎপাদিত শুটকিতে তিনগুণ বেশি পুষ্টিগুণ বিদ্যমান।

শুটকির ওপর নির্ভর করে অনেকের বেকারত্ব দুর হবার সাথে সাথে গ্রামীণ বিলাঞ্চলের মানুষেরও আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। শুটকি উৎপাদনকারিদের উৎসাহিত করতে এই কাজে কর্মরতদের দক্ষতা বাড়াতে আগামী দিনে ট্রেনিং ও ঋণ প্রদানের প্রকল্প গ্রহণ করার পরিকল্পনা করছে সরকারের স্থানীয় মৎস্য অফিস।

চলনবিলের শুটকি উৎপাদনকারীদের সাথে আলাপে ও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরেই চলনবিল থেকে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির ছোট-বড় মাছ আহরণ করা হয়। আহরিত মাছ বিক্রির পরেও প্রচুর পরিমাণ মাছ অবিক্রিত থেকে যায়। যা এক সময় নষ্ট হত অযতœ-অবহেলায়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরেই চলনবিলের শুটকি উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া, মহিষলুটি, মান্নান নগর, উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর, পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে শত শত অস্থায়ী শুটকির চাতাল। প্রতিটি চাতালে শুটকি মাছ উৎপাদনের বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন করে নারী-পুরুষ শ্রমিক। শুটকি উৎপাদন শুরু হওয়ার পর এখানে কাজের সুবাদে দূর হয়েছে এদের বেকারত্ব।

চলনবিলের বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে প্রতিদিন প্রতিটি চাতালের জন্য অন্তত ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকার দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ কেনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পুটি, রুপচাদা, টেংরা, খইলসা, চেং, টাকি, গচই, বোয়াল প্রভৃতি জাতের মাছ। প্রতি চাতালে উৎপাদিত শুটকি মাছ প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। শুটকি উৎপাদনে মাছ ক্রয়ের পর চাতালে কাজ করা শ্রমিকদের দিন হিসেবে মজুরি দেবার পরেও একেকটি চাতালে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে লাভ পাওয়া যায়। এই নগদ টাকার লেনদেনের কারণে বিলাঞ্চলের অর্থনীতি অনেকটাই গতিশীল হয়ে উঠেছে।

চলনবিল অধ্যুষিত উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুরের শুকুর আলী, আব্দুল জলিল, সফিকুল ইসলাম, মনতাজ হোসেন, ধরইল গ্রামের আবু বক্কার সিদ্দিকীসহ একাধিক উৎপাদনকারী জানান, সেপ্টেম্বর মাস থেকে তারা চাতাল স্থাপন করে শুটকির উৎপাদন শুরু করেন। জেলেদের জালে ধরা পড়ে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির মাছ। এসব মাছ জেলেদের কাছ থেকে ক্রয় করে শুরু হয় শুটকি উৎপাদনের প্রক্রিয়া। স্থানীয় নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা চাতালে কাজ করেন। এভাবে টানা ছয় মাস শুঁটকি উৎপাদন করেন তারা। এ অঞ্চলে চাতালে নারী ও পুরুষ শ্রমিক কাজ করেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহেদ আলী জানান, এখানের শুধুমাত্র তাড়াশ ও উল্লাপাড়াতেই প্রায় ১৬০ থেকে ১৭৫ মন শুটকি উৎপাদন হয়। এটি অত্যান্ত লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর প্রসার হচ্ছে। এখানকার শুটকি রাসায়নিক মুক্ত এবং সুস্বাদু। তিনি বলেন, আগামিতে শুটকি উৎপাদনকারিদের প্রশিক্ষিত করতে ট্রেনিং দেওয়া ও ঋণ সুবিধার ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। আশা করছি এতে চলনবিলে এই শিল্পটি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

 

 

Facebook Comments