ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ০৩ জুন ২০২০

বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি মানুষ বেকারত্বে ভুগছে

বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি মানুষ বেকারত্বে ভুগছে

নিউজ ডেস্ক : বিশ্বের ৪৭ কোটির বেশি মানুষ বর্তমানে পূর্ণ কিংবা আংশিক বেকারত্বে ভুগছে। এ সংখ্যা বিশ্বের মোট শ্রমশক্তির ১৩ শতাংশ। জাতিসংঘের (ইউএন) আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত আয় করতে পারছে না। দিন দিন তারা যেমন দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবর্তিত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে বৈষ্যমের মাত্রা। খবর এএফপি ও গার্ডিয়ান।

ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল আউটলুক শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে আইএলও বলছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলমান মন্দার কারণে মানুষ কাজ হারাচ্ছে। তবে গত দশকের অধিকাংশ সময়জুড়ে বেকারত্বের হার প্রায় একই ছিল। এর মধ্যে গত বছর বেকারত্বের হার পৌঁছেছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশে। চলতি বছরও এ হার খুব একটা পরিবর্তন হবে বলে মনে হচ্ছে না। এ বছর নিবন্ধিত বেকার মানুষের সংখ্যা ১৯ কোটি ৫ লাখে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্মহীন মানুষের এ সংখ্যা গতবছর ছিল ১৮ কোটি ৮০ লাখ।

জাতিসংঘ বলছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষ আংশিক বেকার। এর মানে হলো, তারা যে পরিমাণ কাজ করতে চাচ্ছেন, সেই পরিমাণ কাজ মিলছে না। অথবা তারা হয়তো কাজ খোঁজা ছেড়ে দিয়েছেন কিংবা শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাকরির জন্য প্রাপ্তবয়স্ক ৫০০ কোটি ৭০ লাখ মানুষের মধ্যে ১৬ কোটি ৫০ লাখ প্রয়োজনীয় আয়ের জন্য পর্যাপ্ত কর্মঘণ্টা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে ১১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ কাজ খোঁজা ছেড়ে দিয়েছেন, কিংবা ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে তারা চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারছেন না। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী বেকারত্ব ও পর্যাপ্ত আয়ের সংকটে ভুগছে অন্তত ৪৭ কোটি ৩০ লাখের মতো মানুষ।

এ বিষয়ে আইএলওর ডিরেক্টর জেনারেল গাই রাইডার বলেন, কাজের মধ্য দিয়ে ভালো জীবনযাপন কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। কর্মবিষয়ক বৈষম্য এবং কাজ থেকে ঝরে পড়ার কারণে তারা ভালো উপার্জন করতে পারছেন না, যা তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করছে।

এদিকে উৎপাদনমুখী ও ভালো বেতনের চাকরির অভাবে বিশ্বব্যাপী তীব্র কিংবা তুলনামূলক কম দারিদ্র্যে ভুগছে ৬৩ কোটির বেশি কর্মজীবী। তাদের প্রতিদিনের মাথাপিছু আয় ৩ দশমিক ২০ ডলারেরও কম। বৈশ্বিক দারিদ্র্যের স্তর কমতির দিকে থাকলেও এ মানুষেরা পর্যাপ্ত আয়ের উৎস না থাকায় দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভাঙতে পারছে না।

আইএলওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক শ্রমশক্তির ৬০ শতাংশেরও বেশি বর্তমানে অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত। ফলে বিপুল এ জনশক্তিকে অধিকাংশ সময়ই নিম্ন মজুরি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। একই সঙ্গে তারা মৌলিক সামাজিক সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত হন।

আইএলও সতর্ক করে, উপার্জন ও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির লিঙ্গ, বয়স ও ভৌগোলিক পরিচয়ও প্রভাব ফেলছে। দেখা গেছে বিশ্বে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষের কোনো চাকরি নেই, নেই শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণও।

গাই রাইডার বলেন, সব মিলিয়ে উপার্জনরতদের মধ্যে তীব্র বৈষম্য বিরাজ করছে। উচ্চ ও নিম্ন উপার্জনকারীদের উপার্জনে পার্থক্য আকাশছোঁয়া। আর এ বিষয়ে আমরা আগে যা ভেবেছিলাম পরিস্থিতি তার থেকে অনেক বেশি খারাপ।

Facebook Comments