ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ২৭ জানুয়ারি ২০২০

ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় বাড়ছে সরিষা চাষ

ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় বাড়ছে সরিষা চাষ

হিলি সংবাদদাতা: ফলন ভালো হওয়ায় ও অন্যান্য ফসলের চেয়ে ভালো দাম পাওয়ায় দিনাজপুরের হিলিতে দিন দিন বাড়ছে সরিষা চাষ। ধান চাষ করে অব্যাহতভাবে লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন ও বোরো চাষের মাঝামাঝি সময়ে সরিষার আবাদ করেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কৃষকরা।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ৮৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। গতবার আবাদ হয়েছিল ৮২০ হেক্টর জমিতে। বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-৯, বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, টরি-৭ জাতসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের সরিষার চাষ করেছেন কৃষকরা। ধানের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে সরিষার আবাদ।

কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে ধান চাষ করে ধানের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের অব্যাহতভাবে ধান চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই ধান চাষের ক্ষতি খানিকটা পুষিয়ে নিতে আমন ও বোরো চাষের মাঝামাঝি সময়টা সরিষার আবাদ করছি আমরা। এছাড়াও সরিষার আবাদ অন্যান্য ফসলের আবাদের চেয়ে লাভজনক। সরিষার আবাদে তেমন কোনও খরচ নেই বললেই চলে। সময়ও কম লাগে। জমিতে সরিষা লাগানোর পর তেমন একটা সেচ দিতে হয় না। সবকিছু মিলিয়ে একবিঘা জমিতে সরিষা আবাদে খরচ হয় ১৮০০-২০০০ টাকার মতো। আর একবিঘা জমি থেকে ৬-৭ মণের মতো সরিষা পাওয়া যায়। প্রতিমণ সরিষা ১৭০০-১৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। ফলে একবিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করে ৭-৮ হাজার টাকার মতো লাভ হয়। সেইসঙ্গে আমন ও বোরো চাষের মাঝে সরিষা লাগালে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া বেশ ভালো রয়েছে। সরিষাতে রোগ বালাই ও পোকামাকড়ের তেমন একটা আক্রমণ না থাকায় বেশ ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন জানান, হাকিমপুর উপজেলায় দিন দিন সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় ৮৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। আমরা কৃষকদের সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। এজন্য প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চলতি মৌসুমে ১৪০ জন প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ফলোআপ কর্মসূচির আওতায় ৩০০ জন কৃষককে সরিষার বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে জমির মাটির অবস্থা বুঝে কৃষকদের সঠিক মাত্রায় সার ও কীটনাশক দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

Facebook Comments