ইয়াওমুল খামিছ (বৃহস্পতিবার), ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন ফলদ জাত উদ্ভাবনে গবেষণা

নারায়নগগঞ্জ সংবাদদাতা: আড়াইহাজার উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে, ভুলতা-আড়াইহাজার সড়কের পাশে ঝাউগড়া পরিত্যক্ত বিমানবন্দরে প্রতিষ্ঠিত কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে আড়াইহাজার হর্টিকালচার সেন্টার।

এখানে আছে বিশাল বাগান। কেউ কেউ এটিকে ‘আমের বাগান’ও বলেন। বাগানের প্রবেশ মুখেই গাছের সারি মুগ্ধ করে দর্শনার্থীকে। ভেতরে বাঁ দিকে হাজার হাজার বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির দেশি-বিদেশি গাছ। ভেতরের দক্ষিণ দিকটায় নানারকম ফুল, ফল, সবজি আর শস্যের বিছানা।

এখানে চলছে চারা উৎপাদন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা। এখানকার কর্মকর্তারা নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা করে চলেছেন। এখানকার উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন হচ্ছে ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কিউজাই আম ও পালমার আম। এগুলো সারাদেশের ফলাহারি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সারাদেশ থেকে লোকজন আসেন এখান থেকে চারা সংগ্রহের জন্য।

হর্টিকালচার সেন্টার থেকে জানা যায়, বর্তমানে থাই পেয়ারা, ফজলি, ল্যাঙড়া, হিমসাগর, আ¤্রপালি, মল্লিকা, বারোমাসী আম, ডেউয়া, লটকন, খেজুর, আমলকী, হরীতকী, বহেড়া, নিম, টকফুল, শরিফা, আতাসহ ৮৬ হাজার বিভিন্ন উন্নতমানের চারা ও কলম উৎপাদন-মজুদ আছে।

প্রতি মাসে হাজার খানেক চারা ও কলম বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। ৪৯৭টি ফল, ঔষধি ও বিভিন্ন বৃক্ষের মাতৃগাছ রয়েছে। বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৩৫০ কৃষককে প্রশিক্ষণ শেষে ভিয়েতনাম থেকে আনা নারিকেলের (খাটো গাছে তিন বছরে ফলন) চারা দেওয়া হয়েছে। আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকায় ৪০টি বসতবাড়ি এবং ২০০ নারিকেলের চারা প্রদর্শনী করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০টি ফল বাগান এবং ৫৫টি বাণিজ্যিক মিশ্র ফল বাগান প্রদর্শনী করা হয়েছে।

আড়াইহাজারের হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ নাসির উদ্দিন জানান, ২০১৩ সালে ভিয়েতনাম সফরের সময় অ্যাভোকাডো, ডুরিয়ান, রাম্বুটান, সুইট পোমেলা, কলমের কাঁঠাল, ভিয়েতনাম লটকন, ড্রাগন ফল, মিষ্টি তেঁতুলের মতো উন্নতমানের পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফলের বীজ এনে এগুলো কলমচারা করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন জাতের ফুল-ফলের চারা বিভিন্ন দেশ থেকে এনে আমাদের প্রযুক্তির মাধ্যমে তা উৎপাদন করার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অনুসরণ করে নার্সারির মালিকরাও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে এসব সরবরাহ করছেন। তারাও ব্যবসায়িক সাফল্য পাচ্ছেন।

Facebook Comments