ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

জীবিতকে মৃত সাজিয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উপজাতি সন্ত্রাসীদের অপপ্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক: উপজাতি সন্ত্রাসীদের দৌরাত্মে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলায় ত্রাসের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি উপজাতি সন্ত্রাসীদের মদদপৃষ্ঠ কয়েকটি সংগঠন সেই সাজানো কল্পনা চাকমা হত্যার মিথ্যা ঘটনা নিয়ে সক্রিয় হয়ে সেমিনার-সমাবেশ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ বহু আগেই প্রমাডুত হয়েছে কল্পনা চাকমা জীবিত এবং দেশের বাইরে অবস্থান করছে।

জানা গেছে, উপজাতি সন্ত্রাসীদের দাবী অনুযায়ী- ১১/০৩/১৯৯৬ ইং তারিখে লেফটেনেন্ট ফেরদৌসের নেতৃত্বে একদল সৈনিক রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে গোলাগুলি চালিয়ে কল্পনা চাকমাকে ও তার ভাই কালিন্দী চাকমা ও লালবিহারী চাকমাসহ অপহরণ করে। কিন্তু কালিন্দী চাকমা এই ঘটনায় যে মামলা করে তাতে অপরিচিত লোকের কথা বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী এবং গোলাগুলির কথা উল্লেখ করা হয়নি। লেফটেনেন্ট ফেরদৌস ঘটনার দিন সকালে নির্বাচন উপলক্ষে দায়িত্ব পালনের জন্য উগলছড়ি ক্যাম্পে আসেন, যা কল্পনা চাকমার বাড়ির নিকটবর্তী ছিলো। উক্ত ক্যাম্পে একজন মেজর, একজন ক্যাপ্টেন, দুজন লেফটেনেন্টসহ প্রায় ৯০ জন সৈনিক ছিলো। তারা এবং নির্বাচন পরিচালনা কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাসহ সকলে ঐদিন উগলছড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাত যাপন করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাতে ওখান থেকে গিয়ে গোলাগুলির মাধ্যমে অপহরণ করলে এতগুলো লোকের কেউ জানল না, শুনলো না এটা কেমন করে হয়! ক্যাম্প থেকে বের হলে কমান্ডারের অনুমতি, গোলাগুলির হিসেব দিতে হয়। কল্পনা চাকমার ভাইদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল বলা হয়েছে কিন্তু কারও গায়ে গুলি লাগলোনা কেন? তাছাড়া দুর্গম জনবিচ্ছিন্ন পার্বত্য অঞ্চলে দিনে যে কাউকে অপহরণ/গুম করা যায়, যেখানে সামান্য পরিমাণ আচ করার সুযোগ নেই সেখানে রাতের বেলা অপহরনের মতো ঝুঁকি নেয়ার যৌক্তিকতা কোথায়?

এ নিয়ে অনুসন্ধানকারী কয়েকটি মহল জানিয়েছে, কল্পনা চাকমা ছিলো উইমেন ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক। সে তাদের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ক্যাম্পেইন না করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী দীপংকর তালুকদারের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। আর এইটাই তার জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও শান্তি বাহিনীর নীতি পরিপন্থি হওয়ায় তারাই তাকে অপহরণ বা হত্যা করেছে। শান্তিবাহিনী নির্বাচনে তাদের ভরাডুবির কথা আঁচ করতে পেরেই উদ্দেশ্যপ্রোনোদিতভাবে এই ঘটনা রচনা করেছিল। শুধু কল্পনা চাকমা নয়, সেই সময়ে তারা আরো ৩৫ জন আওয়ামী লীগ পন্থীকে অপহরণ করে চরম নির্যাতন এবং মুক্তিপন আদায় করেছিল।

কল্পনা চাকমার অপহরণ ঘটনা নিয়ে একটি স্বতন্ত্র তদন্ত করেছিল তৎকালীন মানবাধিকার কমিশন। এ তদন্তের বিষয়ে ১৯৯৬ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তদন্তের নানা তথ্য, উপাত্ত, ভিডিও প্রদর্শন করে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ও জাতীয় সমন্বয়কারী এডভোকেট কে এম হক কায়সার বলেছে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তারই লোকজন দ্বারা কল্পনা চাকমা নিখোঁজ রয়েছে। লে. ফেরদৌস অথবা অন্য কোনো সামরিক বাহিনীর সদস্যই যে, এই ঘটনার সাথে জড়িত নয় তা কল্পনা চাকমার মা, আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় জনগণের বক্তব্যে প্রকাশ পায়।

তিনি আরো বলেন, কল্পনা চাকমা বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যের গঙ্গাছড়া মহকুমার শুক্রে নামক স্থানে অবস্থান করছে। বিভিন্ন তথ্য প্রমাণসহ লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কল্পনা চাকমা শেষ কবে মার সাথে যোগাযাগ করেছে, এই প্রশ্নের জবাবে মা বাধনী চাকমা জানায়, নিখোঁজ হওয়ার পর দুইবার যোগাযোগ করেছে, এবং সর্বশেষে যোগাযোগ হয়েছে ১ আগস্ট ’৯৬। এতে প্রমাণিত হয় যে, কল্পনা চাকমা বেঁচে আছে এবং কোথায় আছে তা তার মা বেশ ভাল ভাবেই জানে।

Facebook Comments