ইয়াওমুস সাবত (শনিবার), ১৫ আগস্ট ২০২০

ফ্রেঞ্চফ্রাই উপযোগী আলু উৎপাদন বাড়ান:কৃষিমন্ত্রী

ফ্রেঞ্চফ্রাই উপযোগী আলু উৎপাদন বাড়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আলু রফতানিতে আরও দুই বছর প্রণোদনা দেয়া উচিত। পাশাপাশি ফ্রেঞ্চফ্রাই ও চিপসের চন্য আলুর উন্নতজাত চাষ করতে হবে। আলু প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন করে রফতানির মাধ্যমে এই শিল্পকে লাভবান করা সম্ভব।

তিনি বলেন, রফতানি উপযোগী আলুর জন্য কন্ট্রাক্ট ফারমিং ও টিস্যু কালচারে যেতে হবে। এ শিল্পকে লাভবান করতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এখন থেকে শুধু বীজ উৎপাদন নয়, আগামীতে আলু রফতানিও করবে।বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ বা র‌্যাব দিয়ে অভিযান চালিয়ে বা মনিটরিং করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। পণ্যের দাম বাজারই ঠিক করবে। জোগান বা সরবরাহ বেশি হলে কিছু করা লাগবে না, অটোমেটিকলি দাম কমে যাবে। তারপরও বাজার মনিটর করতে হবে।

ফ্রেঞ্চফ্রাই উপযোগী আলু উৎপাদন বাড়ান:

সংবাদ সম্মেলনে উন্নতজাতের আলু চাষ এবং রফতানির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ফ্রেঞ্চফ্রাই ও চিপসের চন্য আলুর উন্নতজাত চাষ করতে হবে। আলু প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন করে রফতানির মাধ্যমে এই শিল্পকে লাভবান করা সম্ভব।

মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নতজাতের আলু উৎপাদন ও রফতানি এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ এবং লাগসই সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ সংরক্ষণের অভাবে সঠিক দাম না পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সভায় জানানো হয়, আলুর উৎপাদন বছরে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানিকারক দেশ যে সব শর্ত দিয়েছে তা মেনে ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট বা উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সার্টিফিকেট (পিসি) নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় আলু রফতানির জন্য যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা পূরণ করে রফতানির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আরও নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য যেসব দেশে আলু রফতানি হচ্ছে, সে সব দেশে কি জাতের আলুর চাহিদা রয়েছে তা জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী উৎপাদন ও রফতানির ব্যবস্থা নিতে বলেন মন্ত্রী।

চলতি মৌসুমে আলু রফতানির বিষয়ে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আরও কী পদক্ষেপ নিতে হবে, কোনও সমস্যা রয়েছে কিনা সেসব বিষয়ে মন্ত্রী জানতে চান।

সভায় জানানো হয়, আলু রফতানির উদ্দেশ্যে আমদানিকারকদের চাহিদার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অ্যাক্রিডেটেড ল্যাব স্থাপন করবে এবং ইতোমধ্যে ৯১টি আলুর জাত অবমুক্ত করা হয়েছে।

আলু রফতানিতে প্রণোদনার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আলু রফতানিতে ২০ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হয়। এ বিষয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তা করছি। তবে এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করব। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রণোদনা এক-দুই বছর বাড়িয়ে দেয়া উচিত। বাজারে প্রবেশের পর তা আস্তে আস্তে কমিয়ে আনা হবে। এছাড়া আলু রফতানির উদ্দেশ্যে আমদানিকারকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অ্যাক্রিডেটেড ল্যাব স্থাপন করবে। বারি এখন পর্যন্ত ৯১টি আলুর জাত অবমুক্ত করেছে। আলু প্রসেসিং করে রফতানির উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও চিপসের জন্য আলুর জাত আবাদ করতে হবে। আলু প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন করে রফতানির মাধ্যমে এ শিল্পকে লাভবান করতে হবে। এজন্য আমাদের রফতানি উপযোগী আলু পেতে হলে কন্ট্রাক্ট ফারমিংয়ে যেতে হবে। রফতানি উপযোগী আলুর বীজ অবমুক্তির সময়সীমা তুলে নিয়েছে সরকার। এখন যে কেউ রফতানি উপযোগী আলুর জাত আবাদ করতে পারবে। তবে রোগ বালাইয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান তদারকি করবে। যেকোনো মূল্যে আলু রফতানি করতে হবে। এ বিষয়ে সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে শিল্পটিকে লাভজনক করতে হবে। আলুর উৎপাদন বছরে ৫.১৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় আলু রফতানির জন্য যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা পূরণ করে রফতানির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আরও নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য যেসব দেশে আলু রফতানি হচ্ছে সেসব দেশে কী জাতের আলুর চাহিদা রয়েছে তা জানতে হবে এবং আমাদের দেশে আবাদ করতে হবে।

কোল্ড স্টোরেজ সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ভালো কোল্ড স্টোরেজ নেই। যা দিয়ে আলুর গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখা যায়। কোল্ড স্টোরেজ করার জন্য কেউ যদি এগিয়ে আসে তাহলে সরকার তাদের দেখবে। যাতে দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করে বাজারে আলুর সরবরাহ ঠিক রাখা যায়। বীজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমরা টিস্যু কালচারের ওপর গুরুত্ব দেব। এজন্য বিএডিসিকে বলব, তারা যেন টিস্যু কালচার করে। বিএডিসি কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার তৈরি করে জি টু জি ভিত্তিতে আলু রফতানি করতে পারে। আমরা একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএডিসি শুধু বীজ উৎপাদন করবে না তারা আগামীতে আলু রফতানিও করবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ বছর আমাদের আলু উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৯ লাখ টন। আমাদের বাৎসরিক চাহিদা ৭০/৮০ লাখ টন। সে হিসাবে আমাদের উদ্বৃত্ত থাকে ৩০ লাখ টন। এ উদ্বৃত্ত আলু কীভাবে বাজারজাত করতে পারি এবং যারা কৃষক বা উৎপাদনকারী তারা যাতে ভালো দাম পায় সেটার নিশ্চয়তা আমাদের দিতে হবে। আমরা বলি, তৈরি পোশাকমুখী আমাদের রফতানি। সেটাকে আমাদের বহুমুখীকরণ করতে হবে। বহুমুখীকরণ করতে হলে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও মূল্য সংযোজন করলে কৃষকরা অনেক লাভবান হবে। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো- সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ। এজন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হবে।

Facebook Comments