ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

টানা ১৭ শুক্রবার ‘জুময়ার নামাজ’ হয়নি কাশ্মীরের বড় জামে মসজিদে!

সন্ত্রাসবাদের তকমা দিয়ে কাশ্মীরে নির্যাতন বাড়াচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাশ্মীরের শ্রীনগরের জামে মসজিদে নামাজ আদায় হয়নি লাগাতার ১৭ শুক্রবার। গত ৫ আগস্ট ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী সরকার কর্তৃক জম্মু ও কাশ্মির বিশেষ সুবিধা ও মর্যাদা বাতিলের পর থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় শ্রীনগরের জামে মসজিদে জামায়াত। শুক্রবার নামাজ আদায়ের উপরও জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা।

এদিকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকে জম্মু ও কাশ্মিরে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে সরব হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। কাশ্মিরে ৫,০০০ জনেরও বেশি মানুষকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে ৫ আগস্ট থেকে। এদের মধ্যে ৬০৯ জন এখনো আটক রয়েছেন। এদের মধ্যে নানা ক্ষেত্রের মানুষ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরকে দেওয়া বিশেষ সুবিধা বাতিলের পর থেকেই সেখানকার পরিস্থিতি থমথমে। গত ৫ আগস্ট ওই সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্তের আগে বিক্ষোভ ঠেকাতে নাটকীয় কায়দায় অঞ্চলটিজুড়ে সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। বন্দি করা হয় মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতাকে। ইন্টারনেট, ক্যাবল নেটওয়ার্কসহ যাবতীয় সব যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কারফিউ জারি করে রাস্তায় রাস্তায় সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয় সশস্ত্র বাহিনী।

পাকিস্তানসহ কিছু মুসলিম দেশ কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসন-পরবর্তী অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছে।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকরা চলে যাওয়ার সময় উপমহাদেশ ভাগ হয়ে গেলে তখন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের শাসকরা বিশেষ শর্তে ভারতে যোগ দেন। সেই শর্তটিই ৩৭০ অনুচ্ছেদ আকারে সংবিধানে সংরক্ষিত ছিল। এই অনুচ্ছেদের আওতায় কাশ্মীর আলাদা সংবিধান ও পতাকার স্বাধীনতা ভোগ করতো। এমনকি সেখানে সরকারি চাকরি, জমি কেনা এবং ব্যবসা করার সুযোগটিও ছিল কেবল কাশ্মীরিদের জন্যই। কিন্তু ওই অনুচ্ছেদ বাতিলের কারণে সেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে কাশ্মীরীরা।

Facebook Comments