ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ০৬ এপ্রিল ২০২০

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল থেকে হতে পারে ব্রেস্ট ক্যান্সার!

পিল থেকে হতে পারে ব্রেস্ট ক্যান্সার

নিউজ ডেস্ক: ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে দিনদিন। এ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সারা বিশ্বে নানা প্রয়াস চালানো হচ্ছে। আমেরিকার ‘ফ্রেড হোচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার’-এর গবেষকরা সামনে এনেছে ব্রেস্ট ক্যান্সারের অন্যতম এক কারণ। অধিকাংশ মেয়েইদ বিয়ের পর জন্মনিয়ন্ত্রক পিল খাওয়ার অভ্যাস করেন। ঘন ঘন এই পিল খাওয়াই ব্রেস্ট ক্যান্সারের অন্যতম কারণ বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।

সম্প্রতি ওই ‘ফ্রেড হোচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার’-এর গবেষকদের একটি রিপোর্ট প্রকাশ পেয়েছে আমেরিকার একটি হেলথ ম্যাগাজিনে। সেই তথ্য অনুসারে, ৪০-এর কমবয়সি মেয়েদের শরীরে ব্রেস্ট ক্যান্সার বাসা বাঁধার অন্যতম কারণ এই বার্থ কন্ট্রোল পিল বা গর্ভনিরোধক বড়ি।

অনেকেই খানিকটা সাবধান হয়ে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পিল খোঁজেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রায় সবরকম পিল ব্যবহারেই ব্রেস্ট ক্যান্সারের একটা ঝুঁকি থেকেই যায়।

২১ হাজার ৯৫২ জন মহিলাকে নিয়ে পরীক্ষা চালান গবেষকেরা। ১০ বছর ধরে টানা পরীক্ষা চালানোর পর তারা ২০১০-এ গর্ভনিরোধক বড়িকে ‘ভিলেন’ হিসেবে সন্দেহ করেছে। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ২১ হাজার ৯৫২ জনের মধ্যে ১১০২ জন ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর অধিকাংশেরই এই ধরনের পিল খাওয়া অভ্যাস ছিল।

গবেষণা চলাকালীন, টানা ১০ বছরে যারা নতুন করে এই পিল নেয়া শুরু করেছিল তাদের প্রায় ৬৪ শতাংশের ক্ষেত্রেই এই অসুখ দেখা দিয়েছে। আবার অনেকেই ১০ বছর আগে এই ওষুধ নেয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। এতদিন কোনো লক্ষণও ধরা পড়েনি। কিন্তু ১০ বছর পর এই রোগ নতুন করে জানান দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পিল হরমোনের উপর খুবই প্রভাব ফেলে। জন্মনিরোধক পিলগুলোর কমবেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকেই। ইস্ট্রোজেনের মাত্রার তারতম্য ঘটায় এই ওষুধ। ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার জন্যও ব্রেস্ট ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। তবে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা সরাসরি কতটা দায়ী তা নিয়ে সারা বিশ্বে এখনও সবিস্তার গবেষণা চলছে। কিন্তু তা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা না হলেও গর্ভনিরোধক বড়িগুলো যেভাবে হরমোনের তারতম্য ঘটায়, তা নিয়মিত নিলে ক্যান্সারের শঙ্কা খুবই বাড়ে।

Facebook Comments