ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

এনআরসি বাতিল চায় আসাম

এনআরসি বাতিল চায় আসাম

নিউজ ডেস্ক : জাতীয় নাগরক নিবন্ধন (এনআরসি) কার্যকর করে এখন বিপাকে পড়েছে আসামের শাসক দল বিজেপি। সম্প্রতি বহিরাগতদের বাদ দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আসামে কার্যকর হয় এনআরসি। এতে বাদ পড়ে যায় বহু মুসলমানসহ আসামের বহু ভূমিপুত্রের নাম। বাদ পড়ে আসামের নৃগোষ্ঠীর বহু মানুষের নামও। আর এটাই মেনে নিতে পারছে না আসামের বিরোধী রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি, বাতিল করতে হবে এনআরসি।

আসামের নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির সচিব প্রধান সাধন পুরকায়স্থ আজ মঙ্গলবার সকালে বলে, ‘এনআরসির নামে আসাম সরকার তো ডিটেনশন ক্যাম্পে বাঙালিদের ঢুকিয়ে হত্যা করছে। হয়রানি করছে রাজ্যের বাঙালিদের। এই হয়রানিতে বাধ্য হয়ে বহু বাঙালি ইতিমধ্যে আত্মহত্যা করেছে। শুধু ডিটেনশন ক্যাম্পেই মারা গেছে ২৭ জন। আজ আসাম মানবাধিকার লঙ্ঘনের বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। আসামজুড়ে চলছে বাঙালিদের উৎখাতের চক্রান্ত।’

সাধন পুরকায়স্থ বলেছে, ‘এনআরসিতে বাদ যাওয়া বাঙালিদের এখন যেতে হবে ট্রাইব্যুনালে। কিন্তু কয় জন যেতে পারবেন সেখানে? সবার তো আর্থিক সংগতি নেই। দূরদূরান্তের মানুষ কীভাবে পৌঁছাবেন ওই ট্রাইব্যুনালে ? দুইবার আসাম বিধানসভার নির্বাচিত বিধায়কের নাম ওঠেনি এই এনআরসিতে। সেই আসামে কীভাবে মেনে নেওয়া যায় এই এনআরসিকে? তাই আমরা দাবি তুলছি, হয় এখনই বাতিল করতে হবে এনআরসি, নয় এনআরসিতে বাদ যাওয়া সবার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ১৯ লাখ বাঙালি মানুষকে রাজ্য থেকে বিতাড়নের চক্রান্ত মেনে নেবেন না আসামের বাঙালিরা। তাঁরা এনআরসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। আন্দোলন জারি রেখেছে। আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সরকারও ভাবছে এই এনআরসি বাতিল করে নতুন করে এনআরসি কার্যকর করার।

এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয় গত ৩১ আগস্ট। এতে দেখা যায়, ওই তালিকায় বাদ পড়ে আসামের ১৯ লাখের বেশি বাঙালি হিন্দু-মুসলমানের নাম। এতে আসামের বাঙালিরা খেপে যায়। এনআরসি বাতিলের দাবিতে রাজ্যব্যাপী আন্দোলনে শামিল হয়েছে তাঁরা। আমরা বাঙালি, নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটিসহ আসামের বাঙালি যুব-ছাত্র সংগঠন এর বিরুদ্ধে মাঠে নামে।

১৬ নভেম্বর আমরা বাঙালির ডাকে কলকাতার ধর্মতলার রানী রাশমণি অ্যাভিনিউতে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এই এনআরসির বিরুদ্ধে। এতে যোগ দেন আসাম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড, মণিপুর, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বাঙালি নেতারা। সেখানে দাবি ওঠে এনআরসি বাতিলের।

এসব ঘটনার পর বিজেপির বোধোদয় হয়েছে যে আসামে তাঁদের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। আসামে বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ইঙ্গিত দেন, এই এনআরসি বাতিল করে নতুন করে এনআরসি কার্যকর করার।

তবে এর মধ্যে ২০ নভেম্বর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এবং ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে ঘোষণা দেন, সারা দেশেই কার্যকর করা হবে এনআরসি। বাদ যাবে না কোনো রাজ্য।

যদিও ওই দিনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা ঘোষণা দেন, পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবে না। হতে দেওয়া হবে না। এই রাজ্য থেকে একটি মানুষকেও বিতাড়ন করা হবে না। সবাই থাকবে এই রাজ্যে। ফলে এই এনআরসি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে রাজনীতি।

পরে ২৪ নভেম্বর আসামের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী পরিমল শুক্ল বৈদ্য বলেন, এনআরসি নিয়ে সংশয়ের কিছু নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, গোটা দেশে একযোগে এনআরসি হবে। সে বলেছে, ‘এই এনআরসিতে ১৯ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ গেছে। তাঁদের অনেকের নাম আসা উচিত ছিল। তাই এই এনআরসিকে মেনে নেওয়া যায় না।’

Facebook Comments