ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ২০ নভেম্বর ২০১৯

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি লুটপাটে ব্যস্ত -মান্না

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি লুটপাটে ব্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:  দু-একজন ব্যতিক্রম থাকতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ উপাচার্যই (ভিসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা-পয়সা লুটপাটে ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নামকরা, এরা এক একটা টেন্ডারবাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির গুন্ডা কারা, তাকে রক্ষা করতে যায় কে? যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের গুন্ডারা।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক ছাত্র ঐক্য আয়োজিত ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলা’র প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা।

মান্না বলেন, আপনারা জানেন দীর্ঘদিন যাবৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। তাদের যে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে তারা জানতে চাই। কারণ উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথ নয়, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে না। এখানে লুটপাট চলছে। তাদের জিজ্ঞাসা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। সবশেষে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা আমরা আপনারা দেখেছেন। অভ্যুত্থান মানে কী সেটা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জানেন না। অভ্যুত্থান উনি দেখেন নাই। সেটার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে জনতার অভ্যুত্থানকে নিয়ে অপমান করেছেন। কয়েকজন গুন্ডা গিয়ে অন্তত চারজন শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করেছে। অজ¯্র ছাত্রদের আহত করেছে। তারপরে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যদি বলেন, এটা ছাত্রদের অভ্যুত্থান। তাহলে এর চেয়ে লজ্জার কোনো ব্যাপার থাকে না।

তিনি বলেন, এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারা সব বলে বেড়াচ্ছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান করছেন। তাহলে শুদ্ধি অভিযানের শুরুতে তো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর চাকরি চলে যাওয়া উচিত। তাহলে যাচ্ছে না কেন? গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের চাকরি যায় না। সবাই দাবি করছে, কিন্তু তার চাকরি যায় না। অবশেষে ছাত্ররা এমন সর্বাত্মক আন্দোলন করলো যে, তাকে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে হয়েছে। অপেক্ষা করেন, জাহাঙ্গীরনগরের এই ভিসিকে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যেতে হবে সেদিন বেশি দূরে নয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মীজানুর রহমানের কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিজের খায়েশ প্রকাশ করে বলেছেন, উনি নাকি যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে চান। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর কীভাবে যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে চান? কী মধু আছে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে?

Facebook Comments