ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

কালাপানি থেকে সেনা হটাও, ভারতকে – কে পি ওলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্রের বিরুদ্ধে নেপারের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ছাত্রদের বিক্ষোভ
সম্প্রতি প্রকাশিত ভারতের নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র নিয়ে নেপালে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ক্রমেই জোরদার হয়ে উঠছে। এরই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি বলেছে, নেপাল, ভারত ও তিব্বতের ত্রিসংযোগে অবস্থিত কালাপানি ভূখণ্ডটি নেপালের। ভারতকে সেখান থেকে অবিলম্বে সেনা সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সে।

নেপালের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত কালাপানি ভূখণ্ডকে ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে দেশটির নতুন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করায় নেপালে যে বিক্ষোভ চলছে তা নিয়ে রোববার প্রথম প্রকাশ্যে মুখ খুলে ওলি। তার বক্তব্যের ব্যাপারে নয়া দিল্লির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে যে নতুন মানচিত্রে ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড নির্ভুলভাবে দেখানো হয়েছে এবং নেপালের সঙ্গে সীমান্তের কোন পরিবর্তন ঘটানো হয়নি।

ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির যুব সংগঠন – নেপাল যুব সংঘম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী বলেছে, কোন দেশকে আমাদের ভূখণ্ডের এক ইঞ্চিও দখল করতে দেয়া হবে না। ভারতকে অবশ্যই সেনা সরিয়ে নিতে হবে। তবে বিতর্কিত এলাকাসহ নেপালের একটি সংশোধিত মানচিত্র প্রকাশের যে দাবি উঠেছে তা নাকচ করে দেন সে।

ওলি বলে, ভারত সেখান থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নেয়ার পর আমরা সংলাপে বসবো।

ভারতীয় মানচিত্রের বিরুদ্ধে নেপালে সরকার ও বিরোধী দল একই সুরে কথা বলছে এবং বিক্ষোভ করছে। তিন দিন আগে এ নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন ওলি। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা বিষয়টি অবিলম্বে ভারতের কাছে তুলে ধরার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন।

৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্য মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত ভূখণ্ড পরিণত করার পর ভারত নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে। এতে শুধু কালাপানি নয়, পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং চীন শাসিত লাদাখকেও ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।

 

Facebook Comments