ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে বিপাকে সরকার -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে বিপাকে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী শ্রমিকদের অবর্ননীয় অত্যাচার নির্যাতনের খবর প্রতিনিয়ত আসছে। সেইসাথে আসছে নারী শ্রমিকদের লাশও। কিন্তু এরপরও বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ হচ্ছেনা। উল্টো এইসব সমস্যার সমাধানের নামে আবারও সেই নির্যাতনের ক্ষেত্রগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে ঝামেলায় আছে সরকার। একদিকে নারী শ্রমিকদের অত্যাচারের বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করার কারণে বিপাকে আছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, বিদেশে নারী শ্রমিক না পাঠানোর বিষয়ে সরকার কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিদেশে তাদের (নারী শ্রমিক) চাহিদা আছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের আইন ভালো। কিন্তু এজেন্সিগুলো আইনের তোয়াক্কা করে না। আমি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাকে অনুরোধ করেছি, নারী শ্রমিক পাঠানোর জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে।

পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের মোট ৬ লাখ নারী শ্রমিক কাজ করছেন, যার মধ্যে দুই লাখ সৌদি আরবে রয়েছেন। বেশির ভাগ অভিযোগ সেখান থেকে আসে। আমাদের ৮ হাজার নারী কর্মী দেশে ফেরত এসেছেন। তাদের মধ্যে ৫৩ জন নারী কর্মীর মৃতদেহ এসেছে। কিন্তু আমরা জানি না, তাদের মধ্যে কে কে আত্মহত্যা করেছে।

এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, নারী কর্মীরা নির্যাতিত হলে তাদের শেল্টার হোমে রাখা হয়। তাদের বলা হয়, তারা অভিযোগ করলে মামলা করা হবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা অভিযোগ করতে চান না। তবে দেশে ফিরলে তারা অভিযোগ করেন, তাদের অত্যাচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বিদেশে শেল্টার হোম এবং ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালু করেছি। যে কেউ নির্যাতনের অভিযোগ শেল্টার হোমে এসে কিংবা হটলাইনে ফোন করে জানাতে পারে।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কক্ষে আগুন লাগার বিষয়ে তিনি বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পাঁচ মিনিটের মধ্যে আগুন নেভানো হয়েছে। এতে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

Facebook Comments