ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

স্বেচ্ছাচারিতায় বাড়ছে চালের দাম

স্বেচ্ছাচারিতায় বাড়ছে চালের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: হঠাৎ করে বেড়েছে চালের দাম। বাজারে সব ধরনের চালের দাম প্রতিকেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা করে বেড়েছে। কেন বেড়েছে, তা জানে না কেউ। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, দেশে চালের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও মজুত রয়েছে। সুতরাং দাম বাড়ার কোনও যৌক্তিক কারণ নেই।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে, সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে যাবে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরকারের কোনও মনিটরিং নেই। ব্যবসায়ীরা সুযোগ পেলেই ইচ্ছেমতো চাল, ডাল, পেঁয়াজ, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। বাজারদর সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে সরকারের মন্ত্রীরা বিষয়টি ভাগ্যের ওপরে ছেড়ে দেন, তাদের অজুহাত নতুন ফসল উঠলেই দাম কমে যাবে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ৭ থেকে ৯ নভেম্বর এই তিন দিন ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে দেশের আবহাওয়া খারাপ ছিল। এ সময়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গ থেকে চালের ট্রাক ঢাকায় আসেনি। এই সামান্য অজুহাতে রাজধানীর পাইকারি ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সারাদেশে। এছাড়া, কিছু অসৎ ব্যবসায়ী বিভিন্ন ইস্যুতে সুযোগের সন্ধানে থাকেন। তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ‘রাজধানীতে ট্রাক আসছে না, তাই চালের সরবরাহ কমে গেছে’ বলে বিভিন্ন বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাম বাড়াতে উৎসাহ দিয়েছেন।

খুচরা চাল বিক্রেতা জানান, বাদামতলী-বাবুবাজারের আড়ত থেকে মোবাইলের মাধ্যমে একজন পাইকারি ব্যবসায়ী ৮ নভেম্বর বিকালে আমাদের জানিয়েছেন, প্রবল বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে নাটোর ও নওগাঁ থেকে চালের ট্রাক আসছে না। তাই বাজারে চালের সরবরাহ কমে গেছে। ওই পাইকারি ব্যবসায়ী আরও বলেন, ‘এখন আমাদের দোকান থেকে চাল নিতে হলে প্রতিমণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে।’ কী আর করা, দোকান চালাতে হলে মাল লাগবে। তাই প্রতিমণ চালে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়ে কয়েক ধরনের চাল এনে দোকান চালাচ্ছি।

এ বিষয়ে বাদামতলী-বাবুবাজার চাল আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘মিলাররা নতুন করে চাল সরবরাহের অর্ডার নিচ্ছে না। আমরা পুরনো অর্ডারের চাল এনে বাজার চালাচ্ছি। নতুন অর্ডারের চাল পেলে দাম বাড়বে। কারণ, তারাই দাম বাড়িয়ে চাচ্ছেন।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ২/৩ দিন দেশের আবহাওয়া খারাপ ছিল। বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার ভয়ে পাটের বস্তাভর্তি চালের ট্রাক আমরা রাজধানীতে পাঠাইনি, এটি ঠিক। কিন্তু, তাতে রাজধানীর বাজারে চালের সংকট হওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কারণ, রাজধানীর বাজারগুলোতে এমনিতেই ৮-১০ দিনের চাল অতিরিক্ত মজুত থাকে। সাধারণত পাইকারি ব্যবসায়ীরাই তাদের নিজেদের গুদামে এ ধরনের মজুত করেন, যেন বাজারে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী জানায়, দেশে পর্যাপ্ত চালের মজুত রয়েছে। কোথাও সরবরাহে ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, ‘যে দুদিন দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল, সেই দুদিন বাজারে খাদ্যপণ্য সরবরাহের বিষয়টি আমরা কড়াকড়িভাবে নজরদারিতে রেখেছিলাম। কাজেই সরবরাহের অপ্রতুলতার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আশা করছি, এ বছর ধানের বাড়তি উৎপাদন হবে। বাড়তি উৎপাদন নিয়ে এমনিতেই আমরা বিড়ম্বনায় রয়েছি। কাজেই দেশে চাল সংকটের কোনও সুযোগ নেই।

Facebook Comments