ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার), ৩১ মে ২০২০

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি

বিদ্যুতের ব্যবহার কমে অর্ধেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না উল্লেখ করে বিদ্যুতের মূল্য নতুন করে অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ নামক একটি সংগঠন। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎখাতে দুর্নীতি চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বিদ্যুৎখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। নিয়োগ, ক্রয়, উৎপাদন, সঞ্চালন ও সেবাখাতে চরম দুর্নীতি বিরাজ করছে। গণমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জেনেছি গত ১২ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রেন্টাল, কুইক রেন্টাল কোনো প্রকার বিদ্যুৎ সরবরাহ না করেও ৫৩ হাজার কোটি টাকা পিডিপির কাছ থেকে নিয়েছে। জনগণের কাছে এভাবে অর্থ আদায় করে অনৈতিকভাবে কতিপয় ব্যক্তিকে সুবিধা দেয়া কাম্য নয়।

সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বেই আজ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম চলছে। আমাদের দেশে বাজার ব্যবস্থা লাগামহীন। এর মধ্যে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করলে আগুনের মধ্যে ঘি ঢালার ব্যবস্থা হবে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব বর্তমান সময়ে যথাপযুক্ত নয়।

সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে লাগামহীন বিদ্যুৎখাত। দুর্নীতি উচ্ছেদে কোনো পদক্ষেপ নেই। অথচ অযৌক্তিকভাবে দফায় দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ উৎপাদন সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি চলমান। এই দুর্নীতি রোধ করতে পারলে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না।

অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা রুখে দাঁড়াতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিআরসি বিদ্যুতের অযৌক্তিক উৎপাদন খরচ, বিতরণ, ব্যয় কমানোতে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। এরা সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গণশুনানির নাটক করে।

Facebook Comments