ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

বন্দর খুলে দিতে বাংলাদেশকে ভারতের চাপ

বন্দর খুলে দিতে বাংলাদেশকে ভারতের চাপ

নিউজ ডেস্ক : ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পাঠাতে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের জন্য স্টান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) চূড়ান্ত করতে ঢাকাকে চাপ দিচ্ছে নয়া দিল্লি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসওপি যাতে অবিলম্বে চূড়ান্ত করা যায় সে লক্ষ্যে যত দ্রুত সম্ভব জাহাজ-চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে ভারত।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরগুলো ভারতকে ব্যবহার করতে দেয়ার জন্য ২০১৮ সালের অক্টোবরে নয়া দিল্লিতে এক চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব যথাক্রমে আব্দুস সামাদ ও গোপাল কৃষ্ণান।

কিন্তু এসওপি না থাকায় বাংলাদেশের বন্দরগুলো ব্যবহার করে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে পণ্য পরিবহন শুরু করতে পারেনি ভারত।

দুই পক্ষ বেশ কয়েক দফা এসওপি’র খসড়া বিনিময় করলেও এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি।

ঢাকায় জাহাজ চলাচল মন্ত্রণালয় সুত্র জানায়, আগামী সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এসওপি চূড়ান্ত হয়েছে। ভারত এই ইস্যুটিকে এজেন্ডার শীর্ষে রেখেছে।

আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহরের জন্য প্রশাসনিক পরিচালনা ফি ও অন্যান্য চার্যের ব্যাপারে জানতে চেয়েও জাহাজ চলাচল মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়েছে নয়া দিল্লি।

টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে সামাজ এই পত্রিকাকে জানান যে সচিব পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে।

বৈঠকে কোন কোন ইস্যুতে আলোচনা হবে সে বিষয়ে কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

বাংলাদেশের দুটি সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে ভারত তার উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যে পণ্য পরিবহন করতে চায়। রাজ্যগুলো হলো অরুনাচল প্রদেশ, আসাম, মেগালয়, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা।

কলকাতা থেকে গৌহাটি হয়ে আগরতলা পৌছতে ভারতের যানবাহনকে ১,৬৫০ কিলোমিটার পথ পারি দিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের আশুগঞ্জ নদী বন্দর ব্যবহার করতে পারলে মাত্র ৩৫০ কিলোমিটার পথ পারি দিয়েই আগরতলা পৌছাতে পারবে ভারতীয় পণ্য।

কলকাতা থেকে জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা হলে স্থল পথের দূরত্ব আরো কমে যাবে। চট্টগ্রাম থেকে স্থল পথে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য নিয়ে যাওয়া যাবে।

বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহনের জন্য ভারত এরই মধ্যে মাল্ডিমোডাল ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ভোগ করছে।

বেশ কয়েক বছর বাল্ক কার্গো পরিবহনের পর চলতি মাসের গোড়ার দিকে প্রথমবারের মতো ইন্দো-বাংলাদেশ নৌ-প্রটকলের আওতায় আসামের গৌহাটি থেকে পশ্চিম বঙ্গের হালদিয়া বন্দরে কনটেইনার কার্গো পরিবহন করেছে ভারত।

Facebook Comments