ইয়াওমুল আহাদ (রবিবার), ২৯ মার্চ ২০২০

এনআরসিতে অপ্রাসঙ্গিকভাবে বাংলাদেশকে টানছে বিজেপি নেতারা

দিল্লি নির্বাচনে ভোটের অঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে দুর্ভাবনার কিছু নেই- প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া মোদীর মৌখিক আশ্বাসেও অস্বস্তি বা উদ্বেগ কাটছে না বাংলাদেশে। তার কারণ, ভারতের শাসক দলের কট্টর বাংলাদেশবিদ্বেষী উগ্র নেতারা এনআরসি প্রসঙ্গে বলতে গেলেই বার বার টেনে আনছে বাংলাদেশের নাম।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জে কয়েক মিনিটের বৈঠক হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সেখানে মোদী বলেছিলো, ভারতের এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ২৮ সেপ্টেম্বরের সেই বৈঠক শেষে মোদীকে উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েও ছিলো বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন- মোদী বলেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। তাই এ ধরনের ইস্যু নিয়ে উদ্বেগের কিছুই নেই।

এর পর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দুই প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে আর এক দফা বৈঠকে বসে। সেই বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করেছে। আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময়ও করেছে। তবে সেই বিবৃতিতে এনআরসি প্রসঙ্গে কোনও উল্লেখ ছিল না।

মোদী এবং শেখ হাসিনার ওই বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সাতটি চুক্তি ও এমওইউ সই হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করে তিনটি যৌথ প্রকল্প। বিবৃতিতে ছিল রোহিঙ্গা প্রসঙ্গও। সে প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল, মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশ যে উদারতা দেখিয়েছে তার প্রশংসা করেছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

২০ অগস্ট ঢাকা সফরকালে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছিলো, অসমে এনআরসি নিয়ে যা হচ্ছে সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে এ কথা জানিয়েছিলো সে। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র সভাপতি অমিত শাহ ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজস্থানের জনসভায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ‘উইপোকা’ বলে অভিহিত করে বলেছিলো, ওরা ভারতীয় যুবকদের রুটিরুজি, চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। গরিবের খাবারে ভাগ বসাচ্ছে। দেশের একাধিক জায়গায় সভা করে সে এই মিথ্যা অনুপ্রবেশকারী তত্ত্ব জোর গলায় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। ভারতের এনআরসি নিয়ে যেমন বাংলাদেশের আলোচনাসভা, সমিতি বা সেমিনারে আলোচনা রয়েছে, তেমনই সরগরম সোশ্যাল মিডিয়াও।

Facebook Comments