ইয়াওমুল জুমুআ (শুক্রবার), ২২ নভেম্বর ২০১৯

লবণ শিল্প এখনো পরিমল সিন্ডিকেটের হাতে!

লবণ শিল্প এখনো পরিমল সিন্ডিকেটের হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাষী খুঁজে পাচ্ছেন না লবণ চাষের জমির মালিকরা। প্রতি বছর মৌসুমের অন্তত মাস আগে চাষীরা জামির মালিকদের কাছে ব্যাপকভাবে ধর্ণা দিলেও এখন তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। যার ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন জমির মালিকরা। টাকা দিয়েও চাষী পাওয়া যাচ্ছে না লবণ চাষের। অনেকেই ইতোমধ্যে নিজের পরিবর্তন করেছেন এতে সংকট আরো বেড়েছে। লবণের মুল্য বর্ষা মৌসুমে বৃদ্ধি না পাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জমির মালিকরা।

বাংলাদেশ লবণ পরিষদের সভাপতি মোস্তফা কামাল চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার লবণ আমদানি করবে না, তারপরও লবণের মুল্য বৃদ্ধি হচ্ছে না। এতে ষড়যন্ত্র করছে কিছু লবণ মিল মালিক ও নারায়নগঞ্জ কেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট। যাকে পরিমল সিন্ডিকেট বলা হয়। তারা লবণের সংকট সৃষ্টি করে লবণ আমদানি করতে চায়। লবণ চাষ কম হলে সংকট সৃষ্টি হবে, তখন লবণ আমদানি করা ছাড়া সরকারের সামনে কোন পথ খোলা থাকবে না। এই চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক যতই চেষ্ট করুক সুফল আসবে না। এ চক্রের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

লবণ জমির মালিক মহেশখালীর ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতি মৌসুমের আগে জমির অর্ধেক টাকা দিয়ে চাষীরা জমির প্রাপ্তি নিশ্চিত করত, কিন্তু লবণের মুল্য বৃদ্ধি না পাওয়ায় কোন চাষীই জমির জন্য আসছে না। উল্টো টাকা দিয়েও চাষী পাওয়া যাচ্ছে না। লোক না পেলে জমি চাষ করা দুষ্কর হয়ে পড়বে। আমার ৩ একর জমির জন্য এখনো চাষী পাইনি।

চকরিয়া দরবেশকাটার জমির মালিক আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, লবণের মুল্য সন্তোষজনক হলেও চাষী পাওয়া যাচ্ছে না। লবণ চাষের প্রতি মানুষের চাষীদের মাঝে অনিহার সৃষ্টি হয়েছে। বিগত সময়ে প্রতিটি পরিবার লবণ চাষে জড়িত ছিল, এখন অধিকাংশ ভিন্ন পেশায় চলে গেছে। মুলত গ্রামের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে অনেক স্বাবলম্বি হয়েছে তাই লবণ চাষের দিকে আর মানুষের তেমন ঝোঁক নেই। নিজেদের পেশা পরিবর্তন করতেও মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

Facebook Comments