ইয়াওমুস ছুলাছা (মঙ্গলবার), ১৫ অক্টোবর ২০১৯

বেরিয়ে আসছে বুয়েটে নির্যাতনের আরও ঘটনা

বেরিয়ে আসছে বুয়েটে নির্যাতনের আরও ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবরার ফাহাদ নিহত হওয়ার পর ফিরে আসছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অতীতের বিভিন্ন নির্যাতনের কথা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, র‌্যাগিংয়ের নামে বুয়েটে নির্যাতন আর অপমানের ঘটনা ঘটে হরহামেশাই। ভিন্ন মতের অনেককে শিবির নাম দিয়ে নির্যাতনের ঘটনাও আছে অনেক। ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ খোলা একটি ওয়েবপেইজে গত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত র‌্যাগিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১৬৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের এমন ঘটনা ঘটে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘জেনেও’ উদ্যোগী হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন বন্ধে অহায়ত্বই ফুটে উঠেছে বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমানের কথায়। বুয়েটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে তার দপ্তর। আবরার হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল বুয়েটে বুধবার নির্যাতন নিয়ে শিক্ষার্থীদের বহু প্রশ্নের মুখে অধ্যাপক মিজান বলেন, আমরা চেষ্টা করি, কিন্তু পেরে উঠি না। অনেক সময় তথ্যও আমার কাছে আসে না।

ব্যর্থতার দায় নিয়ে দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন না কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমরা যদি এভাবে চলে যাই, তাহলে এই অবস্থায় কোনো শিক্ষক দায়িত্ব নেবে না।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তার আগের দুই রাতে অর্থাৎ বুধবার এবং বৃহস্পতিবার র‌্যাগিংয়ের দিন ঠিক থাকে। নির্ধারিত কিছু কক্ষ ছাড়াও হলের ছাদগুলোতে চলে নির্যাতন। নির্যাতনের জন্য ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প ব্যবহার হয় বেশি।

বুয়েটের আহসান উল্লাহ হলের ২০১৬ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রথম বর্ষে পড়ার সময় একদিন আমাকে ছাত্রলীগের কয়েকজন ছাদে নিয়ে ডেকে পাঠায়। হাফপ্যান্ট পরে হলে ঘুরলাম কেন, এটা নাকি আমার অপরাধ। সেদিন আমাকে মারধর ও চড়থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেয়। এর পরের দিন আবার ডাকা হয়। সেদিন আমার অপরাধ ’চুল বড় কেন’, অথচ আমার চুল ছোটই ছিল। আমাকে ওইদিন স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়েছিল তারা। শেরে বাংলা হলের ২০১৮ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাকেও ডেকে নেওয়া হয়েছিল, আবরারকে যে রুমে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, সেই ২০১১ নম্বর কক্ষে। সেদিন ১০-১২ জনকে একসঙ্গে নিয়ে চড়-থাপ্পড় দিয়েছিল ছাত্রলীগের নেতারা।

র‌্যাগের নামে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে কান ফাটিয়ে দেওয়া হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে হল থেকে বহিষ্কার হয় আহসান উল্লাহ হলের ছাত্রলীগ নেতা সৌমিত্র লাহিড়ী। কিন্তু দলীয় প্রভাবে সে হলেই ছিলো বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ওই হলের কেমিকৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, সৌমিত্র হলে বহাল তবিয়তেই ছিল। উল্টো তার উপকার হয়েছে, বহিষ্কারের সুযোগে হলের বিভিন্ন ফি দিতে হয়নি তাকে।”

বুয়েটের হলগুলোতে নিয়মিতই এমন নির্যাতনের ঘটনা ঘটার বিষয় উঠে এসেছে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৈরি করা একটি ওয়েবপেইজে। ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ ‘ইউ রিপোর্টার’ নামের অনলাইনে রিসার্চ প্রজেক্ট শুরু করা হয়, যাতে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত র‌্যাগিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১৬৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এই ‘ইউ রিপোর্টার’এ প্রথম অভিযোগটিই ছিল মধ্যরাতে বড় ভাইরা ডেকে নিয়ে ঘণ্টাখানেক দাঁড় করিয়ে রেখে ‘আপত্তিকর কথা’ বলা নিয়ে।

প্রায় পৌনে দুই শতাধিক অভিযোগের অধিকাংশই র‌্যাগিংয়ের নামে ছাদে নিয়ে মারধর, আপত্তিকর কথা, হাত-পা ভেঙে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। বড়ভাইদের না বলে বাবা এবং মাকে নিয়ে কমনরুমে বসেছে এমন অভিযোগ তুলেও মারধর করার অভিযোগ করেছে এক শিক্ষার্থী।

Facebook Comments