ইয়াওমুল ইসনাইন (সোমবার), ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজের বাজার

প্রতিদিনই দেশে ঢুকছে হাজার হাজার টন পেঁয়াজ

নিউজ ডেস্ক : পেঁয়াজ আমদানিতে ভারত নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর একদিনের ব্যবধানে দেশের সবচেয়ে বড়ো পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ বাজারে পেঁয়াজের সরাসরি আমদানিকারক খুব একটা না থাকলেও ভারতের রফতানিকারকরা নিজেদের কমিশন এজেন্টের মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে গুদামভর্তি পেঁয়াজ থাকার পরও বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশে নিজস্ব নিয়োগকৃত ব্যবসায়ীর মাধ্যমে পেঁয়াজ রপ্তানি করে পরে নিজেরাই সেই পেঁয়াজ দেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছেন। এর ফলে তাদের খরচ কম পড়ে। কিন্তু বাংলাদেশের আমদানিকারকরা যদি পেঁয়াজ আমদানি করতে যান তাহলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের তুলনায় খরচ বেশি পড়ে যায়। এ কারণে গত ১০/১২ বছর ধরে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

এ প্রসঙ্গে আজমীর ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. ইদ্রিস মিয়া জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পেরে না উঠে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছি। গত রবিবার ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার পর ব্যবসায়ীরা এখন মিশরের পেঁয়াজ আমদানিতে ঝুঁকছেন। এরইমধ্যে ৩০০ কনটেইনার পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। প্রতি কনটেইনারে ২৮ টন পেঁয়াজ ধরবে। অল্প কিছু পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে আসছে। ব্যবসায়ী আবদুল হালিম খোকন জানান, খাতুনগঞ্জে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ টন পেঁয়াজ বেচাকেনা হয়। কিন্তু গত দুদিনে নতুন করে কোনো পেঁয়াজ আসেনি। যেগুলো বিক্রি হচ্ছে সেগুলো আগে গুদামে ছিল। ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত পাইকারিতে ৫০-৫২ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। গতকাল সোমবার বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হয়। সেই পেঁয়াজ খুচরা বাজারে গিয়ে ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার আগে বেশকিছু পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জের গুদামগুলোতে মজুত ছিল। সেগুলো ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা মতোই বেচাকেনা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলেও অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে খাতুনগঞ্জ ট্রেন্ড এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমেদ বলেন, পেঁয়াজের বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই। এখানে যারা আছে তারা সবাই ভারতের কমিশন এজেন্ট। ফলে চাইলেও অনেকে নিজেদের ইচ্ছেমতো পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছেন না।

Facebook Comments