ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ২৩ অক্টোবর ২০১৯

ঢামেক হাসপাতালে এক্স-রে বিড়ম্বনায় রোগীরা

ঢামেক হাসপাতালে এক্স-রে বিড়ম্বনায় রোগীরা

নিউজ ডেস্ক : ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক্স-রে রুমে দুপুর থেকেই প্রচ- ভিড় লেগে থাকে। এক্স-রে করাতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টার পেরিয়ে যায় তবুও এক্স-রে করাতে পারেন না অনেকে। যেন রোগীর ভোগান্তি দেখার কেউ নেই।’

ঢামেক হাসপাতালের এক্স-রে রুমের সামনের দীর্ঘ লাইন নিয়ে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন রফিকুল ইসলাম নামে এক রোগীর স্বজন।

তার মন্তব্য, লাইন দেখে মনে হয় যেনো ঈদ উপলক্ষে কমলাপুরে রেলস্টেশনের টিকিট কাটতে এসেছি। বিড়ম্বনার শেষ নেই।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার রায়ের বাজারের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম (৪০) বেশ কয়েকদিন ধরে মেরুদ-ের হাড়ের সমস্যায় ভুগছেন। প্রচ- ব্যথা নিয়ে স্থানীয় চিকিৎসককে দেখিয়ে এক্সে-রে করার পরে সেখানে একটি ছোট টিউমার ধরা পড়ে।
এরপর স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকেরা, রোগীকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, ছেলে রফিকুল ইসলামকে নিয়ে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে হাসপাতালে আসেন ফাতেমা।

তিনি বলেন, জরুরি বিভাগে চিকিৎসক আমার রোগের হিস্টোরি শুনে নিউরো সার্জারিতে পাঠান। এরপর আমার এক্স-রের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই আমরা এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।

রোগী ফাতেমার সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তিনি ট্রলিতে। আর একজন ট্রলিম্যানের সহযোগিতায় জরুরি বিভাগের এক্স-রে কক্ষের সামনে আসেন তার ছেলে রফিকুল।

তিনি বলেন, এক্স-রে রুমের সামনে প্রচ- ভিড়। কিন্তু আমার মায়ের এক্স-রে করা জরুরি। অথচ লাইনে দাঁড়িয়ে দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এক্স-রে করাতে পারিনি।

রফিকুল বলেন, প্রথমে ডাক্তাররা এই রুম থেকে ওই রুম, ওই রুম থেকে আবার অন্য বিভাগে-এভাবেই ঘণ্টাদুয়েক পেরিয়ে যায়। সেটাও মাথা পেতে নিলাম। কিন্তু এক্স-রে করাতে এসেও দুই ঘণ্টা নাই। এর মধ্যে ব্যথায় মায়ের অবস্থা কাহিল।

কখন যে মার এক্স-রে হবে, সেই এক্স-রে দেখে চিকিৎসকেরা মা-র চিকিৎসা শুরু করবেন। সেটা যে কখন হবে কে জানে! এদিকে মায়ের তো কষ্ট হচ্ছে।’

শুধু রফিকুলের মা ফাতেমা-ই নন, জরুরি বিভাগের এক্স-রে কক্ষের সামনে প্রতিদিনই এমন ভোগান্তিতে পড়েন শত শত রোগী। কেউ ট্রলিতে শুয়ে আছেন, কেউ-বা রয়েছেন দাঁড়িয়ে কিংবা বসে। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের এক্স-রে যেন হয় না।

ভিড়ের মাঝে ট্রলিতে শোয়া অবস্থায় রয়েছেন শারমীন নামে এক নারী। তার সঙ্গে থাকা মামুন নামে এক স্বজন জানান, শারমিনের নাতনি ২০৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। নাতনিকে দেখভাল করতে এসেছিলেন নানী। কিন্তু এখন তিনি নিজেই রোগী। অথচ ঘণ্টা খানেক দাঁড়িয়েও তার এক্স-রে করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক্স-রে কক্ষের অফিস সহকারী শাজাহান সিরাজ বলেন, আউট ডোরে দুটি, নতুন ভবনে একটি ও আমাদের জরুরি বিভাগে একটি এক্স-রে বিভাগ আছে। এ নিয়ে মোট চারটি বিভাগ আছে এই হাসপাতালে। জরুরি বিভাগ ছাড়া সকাল ৮ থেকে ২টা পর্যন্ত আউটডোরে একই নিয়মে চলে নতুন ভবনের নিচতলায় এক্সে-রে বিভাগগুলো।

তিনি জানান, শুধু বেলা দুইটা থেকে পরের দিন সকাল আটটা পর্যন্ত খোলা থাকে জরুরি বিভাগের এক্স-রে বিভাগ। ওই তিনটি বিভাগ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে জরুরি রোগী থেকে শুরু করে, ওযার্ডে ভর্তি রোগী-সবাই এখানে আসেন। ফলে ভিড় বেশি থাকে এবং আমাদেরও হিমশিম খেতে হয়।

দীর্ঘ লাইন বিষয়ে শাজাহান সিরাজ বলেন, একজন রোগীর এক্সে-রে করতে কিছুটা সময় লাগে। অথচ বাইরে ধরেন, ১০০ রোগী লাইন ধরে থাকে। এতে রোগী ও স্বজনদেরও ভোগান্তি হয়। বন্ধের দিন ছাড়া কোনো কোনো দিন দেখা যায় বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আড়াইশো রোগীর এক্স-রে করেছি, এমন রেকর্ডও আছে।

যোগাযোগ করা হলে ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও চিন্তিত। আমিও দেখেছি সেখানকার প্রচ- ভিড়।

‘আমাদের একটা প্ল্যান ছিল যে, জরুরি বিভাগে এক্স-রে শুধু জরুরি রোগীদের জন্য করা হবে। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে সেটা করা যায়নি এখনও। কারণ আমাদের আউট ডোরে কয়েকটি এক্সে-রে রুম আছে যা, সকাল ৮ থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত চালু থাকে।’
তিনি বলেন, আমাদের নতুন ভবনে এক্স-রে রুম আছে সেটাও সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চালু থাকে। এরপরে সেগুলো বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বিভাগের এক্স-রে বিভাগে চাপ বেড়ে যায়। এ নিয়ে আমিও চিন্তিত।

‘এ বিষয়ে এক্স-রে বিভাগের টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে অনুযায়ী, জরুরি রোগীরাই শুধু জরুরি বিভাগে এক্স-রে করাতে পারবে। ওয়ার্ডের রোগীরা এখানে এক্স-রে করতে পারবে না। আর ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগীদের জন্য আলাদা এক্স-রে মেশিনের ব্যবস্থা থাকবে।’

এ ব্যবস্থা করতে পারলে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি কমে যাবে বলে আশা করেন ঢামেক পরিচালক ব্রি জে ডা. নাসির উদ্দিন।

Facebook Comments