ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার), ২৩ অক্টোবর ২০১৯

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

লালমনিরহাট সংবাদদাতা: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কৃষকরা এখন আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত। বাজারের চাহিদা কারণেই তারা আগাম চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। ইতিমধ্যেই কৃষকরা কদুশাক, কদু, লালশাক, বেগুন, শিম, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, টমেটো ও শশাসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ শুরু করেছেন।

কৃষকরা জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ক্ষেত থেকে তুলে তা বাজারজাত করা যাবে বলে আশা করছেন এখানকার কৃষকরা। কৃষক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, বাম্পার ফলন ও বেশি লাভ হবে এবার।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৯৬৫ হেক্টর জমিতে চলতি বছর শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে একহাজার ৬৮ হেক্টর জমিতে তা চাষ হচ্ছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে কমলাবাড়ী, ভেলাবাড়ী ও সারপুকুর ইউনিয়নে সবজি উৎপাদন বেশী হয়ে থাকে। এর মধ্যে কমলাবাড়ী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সবজির চাষাবাদ করা হয়। সারপুকুর ইউনিয়নের বিভারটারী এলাকার চাষি আব্দুল করিম জানান, ২৭ শতক জমি লিজ নিয়েছেন বছরে ১৫ হাজার টাকায়। সেই জমির প্রায় ১৫ শতাংশে কদু শাক চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এখন কদু শাক বিক্রি করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বড় কমলাবাড়ী দেওয়ানীপাড়া এলাকার কৃষক রুহুল আমীন জানান, শীতের শুরুতে শীতকালীন সবজি বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাজারে চাহিদা থাকার কারণে এ বছর শীতকালীন সবজি হিসেবে ২৭ শতক জমিতে শিমের এবং বাকি ২৭ শতক জমিতে বেগুনের চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে শিম ও বেগুন গাছে ফুল ধরেছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামি দু’এক সপ্তাহের মধ্যে এসব সবজি বাজারে বিক্রি করা যাবে।

অপর এক কৃষক জহুর উদ্দিন জানান, বেগুন আর শিম চাষে তাদের প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে ও বাজারে সবজির চাহিদা থাকলে তিনি সেখান থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

আদিতমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলিনুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হবে। পাশাপাশি, শীতের শুরুতে শীতকালীন সবজি বাজারে এলে কৃষকরা ভালো দাম ভালো পাবেন।

Facebook Comments