খামিছ (বৃহস্পতিবার), ৩০ মে ২০২৪

স্কুল-মাদ্রাসায় চালু হচ্ছে বিতর্কিত যৌন-প্রজনন শিক্ষা

স্কুল-মাদ্রাসায় চালু হচ্ছে বিতর্কিত যৌন-প্রজনন শিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও মাদ্রাসা) বিতর্কিত ‘যৌন ও প্রজনন শিক্ষা’ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মাধ্যমে পরিচালিত ‘জেনারেশন ব্রেক থ্রু’ প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম চালু করা হবে।

স্কুল-মাদ্রাসায় চালু হচ্ছে বিতর্কিত যৌন-প্রজনন শিক্ষা -অভিবাবকদের প্রতিবাদ ও ক্ষোভ

সরকারী এ সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিবাবকরা জানিয়েছেন, তাদের মতামত না নিয়েই সরকার এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। তাই তারা তাদের সন্তানদের নৈতিক ও দ্বীনি মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অনলাইনেও এ নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ। সমাজ বিশেষজ্ঞরাও সরকারের এ একতরফা সিদ্ধান্তকে খুব একটা মেনে নিতে পারেননি। তারা কোন ধরণের আলোচনা ও নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়াই এ সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়নকে সামাজিক অবক্ষয়ের উপকরণ হিসেবে দেখছেন, বলে মতামত দিয়েছেন।

প্রকল্প পরিচালক ও মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ড. জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করে, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা বিষয়ে ‘জেনারেশন ব্রেক থ্রু’ প্রকল্পটি ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। প্রকল্পটির কারণে এবার সারাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ড. হোসেন আরও দাবি করে, ‘জেনারেশন ব্রেক থ্রু’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হচ্ছে এ বছর থেকে। এবার নতুন করে যুক্ত হচ্ছে দেশের পাঁচটি জেলার ২৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই লাখ সাত হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী। আর ২০২১ ও ২০২২ সালে চালু হবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভগের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দেশের অন্য ছয়টি বিভাগের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ধেকে চালু করা হবে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম।

মাউশি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা’ অন্তর্ভুক্ত করা হলেও অভিভাবক মহলের প্রতিবাদ ও শিক্ষকদের অসম্মতির পরও ‘জেনারেশন ব্রেক থ্রু’ নামে একটি প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। ২০১৪ সালে মাউশি এ প্রকল্প চালু করে। শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখে দেশের ৬০টি মাদ্রাসাসহ ৩৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এর অর্থায়ন করে। বেসরকারি সংস্থা কনসার্ন উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট (সিডব্লিউএফডি) এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে মাউশি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবছর শুরু হওয়া ‘জেনারেশন ব্রেক থ্রু’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পধাপ শেষ হবে ২০২২ সালে। এ পর্যায়ে জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী ও রাঙ্গামাটি জেলায় ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের যৌন, প্রজনন-স্বাস্থ্যশিক্ষা দেওয়া হবে। প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অর্থায়ন করবে ক্যানাডা।

প্রকল্পের প্রথম ধাপ ঢাকা মহানগরের ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল শহরের মোট ৩৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কার্যযক্রম পরিচালিত হয়েছে সফলভাবে। এর মধ্যে ৫০টি মাদ্রাসাও ছিল। এ বছরই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কার্যক্রম শেষ হয়। এ ধাপে প্রকল্পভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চার জন করে মোট এক হাজার ৪০০ শিক্ষককে ৫ দিনের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। আর প্রধান শিক্ষকরা অর্ধদিবস প্রশিক্ষণ নেয়।

ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকরাও সরকারের এ সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে তাঁরা বিদেশী সংস্থাগুলোর বিনিয়োগে ও তাদের পরিকল্পনায় প্রণীত এ শিক্ষা প্রকল্পকে বাংলাদেশের মত মুসলিম অধ্যুষিত দেশের কোমলমতি শিশুদের নৈতিক ও চারিত্রিক অবক্ষয়কে আরও বৃদ্ধি করবে বলেই মনে করছে।

Facebook Comments Box